টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের অগ্রগতি কি সত্যিই লক্ষণীয়? সংখ্যার হিসাবে উত্তরটা স্পষ্ট। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ২৬টি টেস্ট জয় হয়েছে। এই জয়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করলে ছবিটা আরও পরিষ্কার হয়।

২০১৮ সালের ৩০ নভেম্বর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৩তম জয় পেতে বাংলাদেশকে লেগেছে ১১২টি ম্যাচ। কিন্তু তার পরবর্তী ১৩ জয়? মাত্র ৪৫ ম্যাচ। অর্থাৎ গত আট বছরে প্রায় প্রতি তিনটি টেস্টে একটি জয় এসেছে।

এসব জয় কি শুধু দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে? পুরোপুরি তা নয়। হ্যাঁ, আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় আছে, আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টেই লজ্জার হার দিয়েছে। কিন্তু বাকিগুলো?

পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট জয়ের পর তাদের বিরুদ্ধে টানা তিন জয় এসেছে। এর আগে ১৩ ম্যাচে ছিল শুধু একটা ড্র, জয় ছিল দুরূহ স্বপ্ন। নিউজিল্যান্ডকে ঘরে ও বাইরে দুই জায়গাতেই হারিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট জয় ঐতিহাসিক—ওই জয়ের আগে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কোনো জয় ছিল না। দুই বছর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতেও তাদের হারিয়েছে।

এই উন্নতির মূলে কোথায়? প্রধানত পেস বোলিংয়ে। মুমিনুল হক নীরবে এই বিপ্লবের সূচনা করেন। মাউন্ট মঙ্গানুই জয়ের সময় তিনিই ছিলেন অধিনায়ক। টেস্ট অধিনায়কত্বের পর তিনি পেসারদের খোঁজখবর নেন, ম্যাচে তাদের উপর ভরসা রাখেন এবং দলে ছড়িয়ে দেন ‘ওরাই আমাদের জেতাবে’। ২০১৯ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে কোনো পেসার ছাড়াই খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। মুমিনুল সেখান থেকে বিপ্লব ঘটান, বোঝান যে নিয়মিত জয়ের জন্য পেস বোলিং অপরিহার্য।

ততদিনে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে উইকেট পেসারদের সাহায্য করতে শুরু করে। নতুন গতির বোলাররা উঠে আসে। প্রথম ১৩ জয়ে পেসারদের গড় ছিল ৫৬.৬৯, পরের ১৩ জয়ে নামে ৩৮.৩৭-এ।

শুধু পেসার নয়, স্পিনাররাও উজ্জ্বল। ২০১৫ সালে অভিষেক মেহেদী হাসান মিরাজ শুরু থেকেই আলো ছড়িয়েছেন, তাইজুল ইসলাম পরিণত হয়েছেন। নাঈম হাসান বা হাসান মুরাদ সুযোগ পেলেই সামর্থ্য দেখিয়েছেন।

বোলার ছাড়া জয় হয় না, স্কোরবোর্ডে রানও দরকার। এখনো প্রায়ই তা হয় না, কিন্তু তারা পারে প্রমাণ করেছেন। ১০০ টেস্ট খেলা মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক দলের ভিত। এবার যোগ হয়েছে নাজমুল হোসেন—দুই ইনিংসে ১০১ ও ৮৩ রান করে ম্যাচ জিতিয়ে বলেন, “বড় ব্যাটসম্যান হলে তো ডাবল সেঞ্চুরিই করে আসতাম...”। লিটন দাস ও মিরাজ ২৬ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর রাওয়ালপিন্ডিতে ম্যাচ জিতিয়ে আনেন।

উচ্চাশা বাড়ছে কি? হয়তো। কিন্তু এখন টেস্ট দলে নতুন কেউ এলে প্রশ্ন ওঠে, ‘কার জায়গায় খেলবে?’ এটাকেও উন্নতি বলা যায়। এমন একটা মুহূর্তের জন্য ২৬ বছরের অপেক্ষা...