আপনার বহু বছরের পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতার সারাংশ একটি সিভি। কিন্তু এর ভাগ্য নির্ধারিত হয় মাত্র ১১ দশমিক ২ সেকেন্ডে। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত এআই প্ল্যাটফর্ম ইন্টারভিউ-প্যাল এক গবেষণায় এ তথ্য জানিয়েছে। এই এআই যুগে সিভিতে ছোট্ট একটি ভুল বা অপ্রাসঙ্গিক তথ্য স্বপ্নের চাকরির সুযোগ নষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে বড় কোম্পানিগুলো এখন এআই দিয়ে প্রথমে সিভি বাছাই করে। তাই প্রথম দর্শনেই নজর কাড়তে হলে সিভিতে কিছু জরুরি পরিবর্তন আনা দরকার।

নিয়োগকর্তারা প্রথমে দেখেন পদের চাহিদার সঙ্গে আপনার যোগ্যতার মিল কতটা। সিভির শুরুর কয়েক লাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য স্থান দিন। তথ্যগুলো এমনভাবে সাজান যাতে চাকরির বিজ্ঞপ্তির অন্তত ৮০ শতাংশ শর্ত পূরণ হয়। অস্পষ্ট কথায় পাতা ভর্তির চেয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়াই ভালো কাজ করে। মনে রাখবেন, প্রথম কয়েক সেকেন্ডে নিয়োগকর্তা প্রয়োজনীয় তথ্য না পেলে সিভিটি বাতিলের ঝুঁকিতে পড়ে।

প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টু দ্য পয়েন্ট সিভিই বেশি কার্যকর। ছবি, যোগাযোগের সঠিক তথ্য এবং সেরা দক্ষতাগুলো যেন সিভির ওপরের অংশেই থাকে
শক্তি ফাউন্ডেশনে বড় নিয়োগ, পদ ১২৩০.

সিভিতে গতানুগতিক বাক্য এড়িয়ে চলুন। অতীতের অর্জন সংখ্যা ও প্রাসঙ্গিক তথ্য দিয়ে স্পষ্ট করুন। যেমন, কোনো প্রকল্পে কাজ করে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ২০ শতাংশ বাড়িয়েছেন—এমন তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন। এ ধরনের সংখ্যাগত তথ্য নিয়োগকর্তার মনে আপনার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি করে। এটি প্রমাণ করে আপনি শুধু কাজ করেন না, সফলও হন।

আপনার সিভি হলো আপনার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং। ১১ সেকেন্ড সময়টি খুব কম মনে হলেও এটিই আপনার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

এখনকার চাকরির বাজারে এআই টুল দিয়ে সিভি ছাঁটাই হয়। পদের সঙ্গে মিলে সঠিক ‘কী-ওয়ার্ড’ বা মূল শব্দ না থাকলে সিভি মানুষের চোখে পড়ার আগেই বাদ পড়ে। তাই আবেদনের বিজ্ঞপ্তির মূল শব্দগুলো সিভিতে বুদ্ধিদীপ্তভাবে ব্যবহার করুন। তবে সিভি পুরোপুরি এআই-জেনারেটেড হয়ে যেন না। যান্ত্রিক সিভির চেয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অর্জনের ছোঁয়া থাকা সিভি নিয়োগকর্তাদের বেশি ভালো লাগে।

ক্লাসরুমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: ‘চিটিং’ নয়, সহায়ক হিসেবে ব্যবহারের ৮টি উপায়.

বাংলাদেশের বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োগে এখন সচেতন। দেশে সিভির গুরুত্ব বাড়ছে। কিন্তু অনেকে অপ্রাসঙ্গিক তথ্য যেমন পারিবারিক পরিচয় বা শখের তালিকা দিয়ে সিভি বড় করেন, এটা উচিত নয়। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টু দ্য পয়েন্ট সিভিই কাজ করে। ছবি, যোগাযোগের সঠিক তথ্য এবং সেরা দক্ষতা সিভির উপরের অংশে রাখুন।

আপনার সিভি আপনার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং। ১১ সেকেন্ড কম সময় মনে হলেও এটি ক্যারিয়ারের দিক বদলে দিতে পারে। অর্জনগুলো সংক্ষেপে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরলে চাকরির দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন। তাই আজই পুরোনো সিভি নতুন করে সাজান।