বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ১৫ মে জাতীয় দলের কোচের নাম ঘোষণার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যে চলছিল চূড়ান্ত প্রস্তুতি। কিন্তু এখন অর্থের অভাব প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজ বাফুফের জাতীয় দল কমিটির জরুরি অনলাইন সভায় কোনো কোচের নাম চূড়ান্ত করা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে সভাপতি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে আবার কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তুরস্ক সফর শেষে তিনি বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় ফিরবেন।
মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললেই সমস্যা সমাধান হবে, তা নিশ্চিত নয়। বাফুফের প্রথম পছন্দ ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যান একজন সহকারীসহ প্রতি মাসে ৩৫ হাজার ডলার বেতন দাবি করেছেন। বাফুফে নিজেরা ১৫-২০ হাজার ডলার পর্যন্ত দিতে পারে। বাকি টাকা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় দেবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী কদিন আগে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন, তবে কত টাকা দেবেন তা নির্দিষ্ট নয়। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলেও আমিনুল হক ফোন ধরেননি।
বাফুফের জাতীয় দল কমিটির এক সদস্য জানান, অর্থের সংস্থান না হলে কোলম্যানকে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম বেতন চাওয়া অন্য কাউকে নেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কোচ নিয়োগে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
জাতীয় দল কমিটির অনলাইন সভা শেষে একজন সদস্য মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘সবকিছুর মূলে অর্থ। বাফুফে ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যানের প্রতিই বেশি আগ্রহী। কিন্তু তাঁকে আনতে যে টাকা লাগে, সেটির ব্যবস্থা এখনো হয়নি। তাই সভাপতি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি আবার ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। কিন্তু এত টাকা জোগাড় হবে কি না সংশয় আছে।’ তিনি আরও জানান, মন্ত্রীর কাছে তিনজনের নাম নিয়ে যাবেন সভাপতি।
সেই তিনজনের মধ্যে জার্মানির কোচ বার্নড স্টর্কসও আছেন নিশ্চিত। বাফুফেতে আবেদন করেও ৮ মে ব্রাজিলের দ্বিতীয় বিভাগে যোগ দেওয়া রিও অলিম্পিকে ব্রাজিলের কোচ রোজারিও মিকেলের নামও আবার শোনা যাচ্ছে।
এদিকে এ বছর সেপ্টেম্বরে সাফ ফুটবল হচ্ছে না, যা পিছিয়ে নভেম্বর-ডিসেম্বরে চলে যেতে পারে। এমনকি এ বছর সাফ না হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। সভায় প্রশ্ন উঠেছে, “সাফ না হলে এত অর্থ দিয়ে কোচ এনে কী লাভ হবে?” এছাড়া শুধু হাই-প্রোফাইল কোচ আনলেই হবে না, দেশের মাঠগুলোর অবকাঠামো ও ঘরোয়া লিগের মান উন্নত না হলে বিশ্বমানের কোচেরা দীর্ঘমেয়াদে কাজ করতে আগ্রহী হবেন না বলেও সভায় আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের মাঠগুলোর নাজুক অবস্থা বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়েই থাকছে।






