চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কদমরসুল এলাকায় সালেহ কার্পেট নামক বন্ধ কার্পেট কারখানার গুদামে অভিযান চালিয়ে র‍্যাব–৭-এর একটি দল ১১ হাজার ৫৭৫ বস্তা চাল জব্দ করেছে। প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি চাল থাকায় মোট জব্দ চাল ৫৭৮ টন। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে র‍্যাব সদস্যরা সরকারি খাদ্যগুদামের চালের বস্তা পান এবং বাজারের প্রচলিত ব্র্যান্ডের বস্তায় প্যাকেটজাত করার প্রমাণও পান। তবে এ চাল কোন গুদাম থেকে কীভাবে এখানে এল, তা এখনও জানা যায়নি।

আজ বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেন, খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রাজীব কুমার দে এবং সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুল আজিজ নামে এক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত গুদামটি সিলগালা করে।

র‍্যাব জানায়, আটক আব্দুল আজিজ অবৈধভাবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের চালের বস্তা বদলে বিভিন্ন মোড়কে বাজারজাত করছেন। চাল গুদামজাতের কোনো লাইসেন্স তিনি দেখাতে পারেননি। সরেজমিনে দেখা যায়, সালেহ কার্পেট কারখানার উত্তর পাশের বড় গুদামে সারি সারি চালের বস্তার স্তূপ। মূল ফটকের বাঁ পাশে নুরজাহান ব্র্যান্ডের চালভর্তি বস্তা, ভেতরে বাঁ পাশে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত বস্তা এবং চিংড়ি ব্র্যান্ডের বস্তা। ফটকের ডানে অন্যান্য ব্র্যান্ডের খোলা বস্তায় চাল রাখা। অভিযানকালে র‍্যাব সদস্যরা এলাকাটি ঘিরে রাখেন।

র‍্যাব–৭ চান্দগাঁও ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তাওহীদুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁরা সালেহ কার্পেট কারখানার ভেতরের গুদামে অভিযান চালান। তাঁরা খবর পেয়েছিলেন, ভেতরে চাল গুদামজাত করে বাজারে সংকট তৈরির চেষ্টা করছে একটি চক্র। এরপর তাঁরা আজ বেলা আড়াইটার দিকে ওই গুদামে অভিযান চালান। এ সময় গুদামের ভেতর গিয়ে দেখতে পান, সরকারি চাল বস্তা থেকে খুলে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বস্তায় ভরে রাখা হচ্ছে। আটক আব্দুল আজিজ গুদামজাত করার কোনো লাইসেন্স দেখাতে পারেনি। ফলে চালগুলো তাঁরা জব্দ করেছেন।"

খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রাজীব কুমার দে বলেন, "গুদামজাতকারীর খাদ্য গুদামজাতকরণের কোনো লাইসেন্স নেই। এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বস্তায় খাদ্য অধিদপ্তরের সিলমোহর দেওয়া। তা থেকে প্রমাণ হয়, সেগুলো খাদ্য অধিদপ্তরের গুদাম থেকে বেরিয়েছে। এখন কীভাবে এই চাল বেরিয়েছে, তা তদন্তসাপেক্ষ ব্যাপার। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে দেখবেন।"

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, "গুদামে খাদ্য অধিদপ্তরের মোড়কে ১ হাজার ১৭২ বস্তা চাল রয়েছে। যার কোনো কাগজপত্র আটক ব্যক্তি দেখাতে পারেননি। এ ছাড়া একটি কারখানার ভেতরে এভাবে চাল গুদামজাত করার জন্য সরকারি কোনো লাইসেন্স তিনি দেখাতে পারেননি। গুদামে বিভিন্ন মোড়কে বস্তায় ৫২০ টন চাল রয়েছে। এখন সেগুলো সরকারি চাল কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গুদামটি সিলগালা করে পুলিশের জিম্মায় দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ নিয়মিত মামলা করবে বলে জানান তিনি।"

র‍্যাবের হাটহাজারী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, "অবৈধ চাল বিক্রির সঙ্গে বড় কোনো সিন্ডিকেট রয়েছে কি না, তা তাঁরা তদন্ত করে দেখছেন। কবে চালগুলো বেরিয়েছে, কোন গুদাম থেকে বেরিয়েছে, সেগুলো তদন্তসাপেক্ষ ব্যাপার। এই মুহূর্তে বলা যাবে না। এ বিষয়ে তাঁরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। আপাতত সিলগালা করে সেটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে। আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।"