২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চলছে এই সময়। এর আলোকে বিশ্বকাপের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা ফিরে এসেছে। ১৯৩০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত মোট ২২টি বিশ্বকাপ হয়েছে। এই সময়সীমায় মূল পর্বে অংশ নিয়েছে ৮০টি দল। নিয়মিত অংশগ্রহণ সত্ত্বেও বেশিরভাগ দল দূর পর্যন্ত এগোতে পারেনি। সেরা দলগুলোর সাফল্যও ভিন্নমাত্রার। কারো সাফল্য একটু বেশি, কারো কম। এই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে অলটাইম র‍্যাঙ্কিং।

এই র‍্যাঙ্কিং তৈরি করা হয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট পয়েন্ট পদ্ধতিতে। প্রতি জয়ের জন্য ৩ পয়েন্ট এবং ড্রয়ের জন্য ১ পয়েন্ট গণনা করা হয়েছে। র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রথমে বিবেচিত হয় মোট পয়েন্ট। সমান হলে টাইব্রেকার হিসেবে গোল ব্যবধান দেখা হয়, অর্থাৎ গোল করা ও খাওয়ার পার্থক্য। এরপরও সমানতা থাকলে মোট গোলের সংখ্যা বিবেচনা করা হয়।

তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে ব্রাজিল জাতীয় দল। ব্রাজিলই একমাত্র দল, যারা ১৯৩০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেললে এটি হবে তাদের টানা ২৩তম অংশগ্রহণ। ধারাবাহিক উপস্থিতি, পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং অসংখ্য কিংবদন্তি ফুটবলারের কারণে ব্রাজিল এখনো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ও সফল দল হিসেবে বিবেচিত।

অংশগ্রহণের সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে জার্মানি। পশ্চিম জার্মানি ও একীভূত জার্মানির রেকর্ড মিলিয়ে ২০২২ পর্যন্ত তারা খেলেছে ২০টি বিশ্বকাপে। যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে আর্জেন্টিনা ও ইতালি, দুটি দলই ১৮টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। মেক্সিকো খেলেছে ১৭টি আসরে।

আর্জেন্টিনা ইতিহাসে অংশগ্রহণের দিক থেকে তৃতীয়। ‘আলবিসেলেস্তেরা’ প্রথম খেলে ১৯৩০ সালে। তবে ১৯৩৮, ১৯৫০, ১৯৫৪ ও ১৯৭০ সালে তারা অনুপস্থিত ছিল। ১৯৭৪ থেকে ২০২২ পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্বকাপে নিয়মিত খেলেছে। ফলে ২০২৬-এ অংশ নিলে তাদের মোট উপস্থিতি হবে ১৯।

২০০২ সালের পর আর শিরোপা না জিতলেও অলটাইম র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে ব্রাজিল। ১১৪ ম্যাচে ৭৬ জয়, ১৯ ড্র ও ১৯ হারে তাদের ২৪৭ পয়েন্ট। এতে ২৩৭ গোল করেছে এবং গোল ব্যবধান +১২৯। তারা জিতেছে পাঁচটি বিশ্বকাপ: ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে।

দ্বিতীয় স্থানে জার্মানি। ১১২ ম্যাচে ২২৫ পয়েন্ট। চারবার চ্যাম্পিয়ন: ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ ও ২০১৪ সালে। তারা মোট আটবার ফাইনাল খেলেছে, যা তাদের ধারাবাহিক সাফল্যের প্রমাণ।

পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় আর্জেন্টিনা। ৮৮ ম্যাচে ৪৭ জয়, ১৭ ড্র ও ২৪ হারে ১৫৮ পয়েন্ট। ১৫২ গোল করেছে, গোল ব্যবধান +৫১। তিন শিরোপা: ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ সালে। মোট ছয়বার ফাইনাল খেলেছে।

চতুর্থ স্থানে ইতালি। আর্জেন্টিনার চেয়ে জয়ে এগিয়ে থাকলেও পয়েন্টে পিছিয়ে। ৮৩ ম্যাচে ৪৫ জয়ে ১৫৬ পয়েন্ট, গোল ব্যবধান +৫১। পরপর তিন বিশ্বকাপে অনুপস্থিতি তাদের পিছিয়ে দিয়েছে। চার শিরোপা: ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে।

পঞ্চম স্থানে দুবারের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। ৭৩ ম্যাচে ৩৯ জয়ে ১৩১ পয়েন্ট, গোল ব্যবধান +৫১। শিরোপা জিতেছে ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালে। ২০০৬ ও ২০২২-এ ফাইনালে হেরেছে।