ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দল হিসেবে জাতীয় পার্টির জন্য তিন কোটি টাকা ব্যয়ের সুযোগ ছিল, কিন্তু তারা তার মাত্র ৬০ ভাগের ১ ভাগই খরচ করেছে।
জি এম কাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি আজ বুধবার নির্বাচন কমিশনে দলীয়ভাবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের খরচের হিসাব জমা দিয়েছে। সেই হিসাবে খরচ দেখানো হয়েছে পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার টাকা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১৯৬ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, ১০১ থেকে ২০০ আসনে প্রার্থী দিলে কোনো দল নির্বাচনে ৩ কোটি টাকা ব্যয় করতে পারে। এছাড়া প্রার্থীরা আসনের ভোটারসংখ্যা অনুযায়ী আলাদা ব্যয় করতে পারেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় পার্টির জমা দেওয়া নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণীতে বলা হয়েছে, দলীয় প্রচারণা বাবদ খরচ হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। জনসভা বাবদ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং কর্মীর খরচ বাবদ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।
সাধারণত সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় প্রার্থীদের অনুদান দিয়ে থাকে। কিন্তু জাতীয় পার্টি এই খাতে কোনো ব্যয় দেখায়নি।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছিল। তারা সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয় দেখিয়েছে।
নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো ফল করে জামায়াতে ইসলামী ত্রয়োদশ সংসদে বিরোধী দলের আসন নিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে অধিকাংশ সময় সংসদে বিরোধী দলের আসনে ছিল জাতীয় পার্টি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের মতো কার্যক্রম নিষিদ্ধ না হলেও চাপে পড়ে জাতীয় পার্টি।
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের গড়া জাতীয় পার্টি এবারের নির্বাচনে তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে। ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম সংসদে দলটির কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই।






