পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। মঙ্গলবার দলের পক্ষে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এই মামলা করেন। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি উত্থাপিত হয়। ডিভিশন বেঞ্চ মামলা গ্রহণ করে বৃহস্পতিবার শুনানির তারিখ ঠিক করেছেন।
শীর্ষণ্য মামলায় অভিযোগ করেন, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সহিংসতা চালায়। এসব ঘটনায় তৃণমূলের অন্তত ২ হাজার কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে তৃণমূলের ৩৬৫টি দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর হয়েছে।
শীর্ষণ্য আদালতের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং দাবি করেছেন, এ ঘটনার তদন্ত উপযুক্ত তদন্ত সংস্থা দ্বারা করার নির্দেশ দেওয়া হোক। রাজ্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আদালত যথাযথ পদক্ষেপ নিন।
মামলার আবেদনকারী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় হুগলির উত্তরপাড়া আসন থেকে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন, তবে ভোটে পরাজিত হন।
শীর্ষণ্য অভিযোগে আরও বলেন, ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় রাজ্য পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। আমাদের সপ্তগ্রামের কর্মী সোমনাথ আচার্য এবং চাকদহের কর্মী তপন সিকদার বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।’
অভিষেক অভিযোগ করেন, এসব ঘটনার সময় পুলিশ নিষ্ক্রিয়। আদালত নীরব দর্শকের ভূমিকায়। অন্যদিকে বিজেপি নেতারা উৎসবে মত্ত। আর প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরের পরিকল্পনায় ব্যস্ত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। আর এই নীরবতার মধ্যেই সাধারণ মানুষকে বিজেপির হিংসা, প্রতিহিংসা এবং চরম অরাজকতার রাজনীতির ফল ভোগ করতে হচ্ছে।
অভিষেকের বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন বিজেপির মুখপাত্র বিমল শঙ্কর নন্দ। তিনি বলেছেন, ‘৪ মে ফল ঘোষণার পর হঠাৎ কিছু মানুষ বিজেপি হয়ে উঠেছেন। তারাই এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। আমরা জোর দিয়ে বলেছি, এসব ঘটনার সঙ্গে বিজেপি জড়িত নয়। যারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে বিজেপি কড়া পদক্ষেপ নেবে। বিজেপি কখনো এসব ঘটনা বরদাশত করবে না। ২০২১ সালে তৃণমূলের বিজয়ের পর তৃণমূল কী করেছিল, সেসব কথা কি ভুলে গেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?’
২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মাধ্যমে রাজ্যে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ব্যাপক বিজয়ের পর তৃণমূলের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে গোটা রাজ্যে। সিপিএমের বহু অফিস ভাঙচুর হয়, দখল নেয় তৃণমূল।
এবার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। নির্বাচনের পর জয়ী বিজেপির নেতারা ঘোষণা করেন, বিজেপির এই বিজয়ে যেন কোনো হামলা, অফিস দখলের ঘটনা না ঘটে। এসব ঘটনায় কোনো সায় থাকবে না বিজেপির।
বিজেপি আরও ঘোষণা দিয়েছে, এখন থেকে তৃণমূল সমর্থকেরা বিজেপির পতাকা হাতে তুলে ভিড়তে চাইবে। এরা যেন বিজেপিতে ঢুকতে না পারে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। যদিও নির্বাচনের পরে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির বিজয় মিছিলে দেখা গেছে তৃণমূলের সমর্থকদের।






