খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধ বালু তোলার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে হামলায় পড়ে ইউএনও, ওসি সহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ ও আনসার। হামলার তীব্রতায় অভিযান বন্ধ করে প্রশাসনীয়রা সরতে বাধ্য হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুর দুটার দিকে রামগড় ইউনিয়নের পূর্ব বলিপাড়া ও দক্ষিণ লামকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম, রামগড় থানার ওসি মো. নাজির আলম, ইউএনওর নিরাপত্তায় নিযুক্ত চার আনসার সদস্য মো. সালাহ উদ্দিন (৩৮), নুর মোহাম্মদ (২৫), নুর মোহাম্মদ (৩৩) ও খোরশেদ আলম (৩৭)। এছাড়া ইউএনও কার্যালয়ের কর্মচারী আবদুল ওহাব জুয়েল (৩০), গাড়িচালক কামাল উদ্দিন (৪০), উপজেলা পরিষদের কর্মচারী মো. হারুন (৪৫), প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মচারী জয়নাল আবেদীন (৪২), পৌরসভার কর্মচারী সিহাব উদ্দিন (২৬), গ্রামবাসী নুর হোসেন (১৯), সুমন ত্রিপুরা (২২), আজাদ (২৫) ও আবুল হাসান (৩০)।

আহত চার গ্রামবাসী জানান, তাঁরা রাবার বুলেটে আহত। আহত সকলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় কয়েক ব্যক্তি অভিযানে বাধা দেন। একপর্যায়ে ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি নিজেসহ ১১ জন আহত হন।

কাজী শামীম আরও বলেন, ওই এলাকায় প্রায় ১০টি স্থানে পাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছিল।

রামগড় থানার ওসি মো. নাজির আলম বলেন, শতাধিক নারী-পুরুষ একত্র হয়ে হামলা চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাঁচটি ফাঁকা গুলি এবং আনসার সদস্যরা পাঁচটি রাবার বুলেট ছোড়েন।

তবে আহত গ্রামবাসী মো. দেলোয়ার, সুমন ও নুর হোসেনের অভিযোগ, প্রশাসনের লোকজন কৃষকদের সেচকাজে ব্যবহৃত খালের পাড়ে রাখা চারটি পাম্প মেশিন ভাঙচুর করেন। এতে গ্রামবাসী বাধা দিলে তাঁদের ওপর গুলি ছোড়া হয়।

এলাকার কৃষক মো. ফারুক অভিযোগ করেন, অভিযানে তাঁর একটি সেচপাম্প ভেঙে ফেলা হয়েছে। একইভাবে কিবরিয়া ও বশর নামের আরও দুই কৃষকের সেচপাম্পও ভাঙচুর করা হয়েছে।

তবে কৃষকদের সেচপাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও কাজী শামীম।