নাজমুল হোসেন সংবাদ সম্মেলনকক্ষে এসে একটি চেয়ারে প্রায় পাঁচ মিনিট বসে রইলেন। তখনো পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদের কথা শেষ হয়নি, তাই বাংলাদেশ অধিনায়কের এই অপেক্ষা। চেয়ারে বসেই নাজমুল অনেকগুলো অটোগ্রাফ দিলেন, একসময় খুনসুটি পর্যন্ত করলেন, ‘টাকা দেন...’
এক স্মরণীয় জয়ের পর সবাই সেই স্মৃতি ধরে রাখতে চায়, নাজমুলও ছিলেন উল্লাসমুখর। মিরপুর টেস্টের পর যতক্ষণ তিনি কথা বললেন, সেই সময়টাই ছিল খুশির সুরে ভরা। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সালমান আগা বলে গিয়েছিলেন, ৭০ ওভারে ২৬০ রানের লক্ষ্য পেলে হারিয়ে দেবেন বাংলাদেশকে।
তাঁর কথা কি শুনেছিলেন? এটাই ছিল নাজমুলের কাছে প্রথম প্রশ্ন। ‘না’ বলেই উত্তর শেষ করলেন তিনি। সালমানের কথা না শোনার দাবি করলেও বাংলাদেশ যখন ২৬৮ রানের লক্ষ্য পাকিস্তানের সামনে দাঁড় করিয়েছিল, তখনই নাকি তিনি বুঝতে পেরেছিলেন জয় আসছে, “না, আমাদের একটা লক্ষ্য ছিল ২৭০ রানের বেশি হলে খুব ভালো একটা রান হবে। এবং যখন আমরা ২৬৭ রানে শেষ করেছি, তখন আমাদের একটা বিশ্বাস ছিল যে এখান থেকে আমরা ম্যাচটা বের করতে পারব।”
শেষ দিনের মধ্যাহ্নভোজের বিরতি শুরুর আগেই ইনিংস ঘোষণা করে দিয়েছিল বাংলাদেশ। এ নিয়ে ১৪তমবার নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৯ ম্যাচে জয় এসেছে আর একবার হেরেছে। তবে আজকের ঘোষণাটি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ, পাকিস্তানের জয়ের সম্ভাবনাও ছিল যথেষ্ট।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এই ইনিংস ঘোষণাকে নাজমুল বড় সিদ্ধান্ত বলে বিবেচনা করছেন, “আমাদের ইনিংস ঘোষণার সিদ্ধান্তটা বড় ছিল। যেটা আমাদের দল সাধারণত এভাবে করে না। এটা ভবিষ্যতে কাজে দেবে, আরও আত্মবিশ্বাস দেবে যে এখান থেকেও এভাবে ম্যাচ জেতা সম্ভব।”
ইনিংস ঘোষণার পরও বাংলাদেশের জন্য কাজ সহজ ছিল না। শেষ সেশনে তাদের দরকার ছিল আরও ৭ উইকেট। চা-বিরতির সময় দলকে কী বার্তা দিয়েছিলেন অধিনায়ক? নাজমুল বলছেন, দিনের শুরু থেকেই জেতার জন্য খেলেছেন তারা।
বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, “আজকে সকাল থেকে আমাদের একটা বার্তা ছিল যে আমরা খেলাটা জেতার জন্য খেলব, পরিস্থিতি যে রকমই থাক। বিরতিতেও কোচ এই বার্তাটা দিয়েছেন এবং আমরা সবাই ওই বিশ্বাসটা নিয়েই ঢুকেছিলাম যে এখান থেকে আমরা খেলাটা জিতব। যদি না জিততে পারি তাহলে ওদের যেন কষ্ট হয় খেলাটা বাঁচাতে।”
ম্যাচ ড্র করার কোনো পরিকল্পনা ছিল না বলেও জানান নাজমুল, “একবারের জন্যও আমরা এ রকম চিন্তা করিনি যে খেলাটা থেকে আমরা হেরে যেতে পারি বা এখান থেকে আমরা খেলাটা ড্র করতে চাই। আমাদের ওই আক্রমণাত্মক মানসিকতা ছিল। আমরা জেতার জন্য চেষ্টা করেছি।”
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সর্বশেষ চক্রে বাংলাদেশের চারটি জয় ছিল। এর আগের দুই চক্রে জয় ছিল শূন্য ও একটি। এবারের চক্রের তৃতীয় ম্যাচে প্রথম জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দলের অধিনায়ক নাজমুল জানিয়ে গিয়েছিলেন, চার-পাঁচে থেকে শেষ করতে চান তারা।
এই জয় কি বাংলাদেশকে সেই পথে এগিয়ে দিল? নাজমুল বলেন, “আমার মনে হয় ধীরে ধীরে যদি এভাবে আমরা এগোতে থাকি, একটা সময় সবাই জানবে যে আমরা এখন ভালো টেস্ট ক্রিকেট খেলি। কিন্তু এখনই এত দূরে যেতে চাই না। অনেক উন্নতির জায়গা আছে। একটা টেস্ট জিতেছি অনেক কথা হবে, অনেক ইতিবাচক কথা হবে। কিন্তু দল হিসেবে উন্নতির জায়গা আছে।”






