পৌরনীতি ও নাগরিকতা
সংক্ষিপ্ত উত্তর–প্রশ্ন
প্রশ্ন: রাজনীতিতে নেতা তৈরির কাজটি বর্ণনা করো।
উত্তর: রাজনৈতিক দল ও জনগণ নেতা তৈরির কাজটি করে। রাজনৈতিক দলের প্রধানই দলের নেতা। যাঁরা আজ স্থানীয় পর্যায়ের নেতা, তাঁরা একদিন জাতীয় পর্যায়ের নেতা হবেন। বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাঁর দলের নেতা।
প্রশ্ন: নির্বাচন কমিশনের গঠন বর্ণনা করো।
উত্তর: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। এটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চার কমিশনারসহ মোট পাঁচজন নিয়ে এটি গঠিত। তাঁদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন। নির্বাচন কমিশনের সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারের মেয়াদ কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর। সরকার ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কর্তব্য নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা। নির্বাচন কমিশন সংবিধানে বর্ণিত নির্দেশনাবলি ও দেশের নির্বাচনি আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। দেশের সুষ্ঠু নির্বাচনে এটি প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রশ্ন: বিরোধী দল কীভাবে সরকারি দলের সমালোচনা করে?
উত্তর: বিরোধী দল সরকারি দলের গঠনমূলক সমালোচনা করে। নির্বাচনে বিজয়ী দল সরকার গঠন করে। দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আইনসভায় বিরোধী দল হিসেবে কাজ করে। সরকারের কোনো কাজে ভুল হলে বিরোধী দল সেই ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেয়।
প্রশ্ন: পরোক্ষ নির্বাচন বলতে কী বোঝো?
উত্তর: জনগণ ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি বা মধ্যবর্তী সংস্থা নির্বাচন করে। এই জনপ্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি বা সংসদ সংরক্ষিত আসনের সদস্য নির্বাচিত করলে তা পরোক্ষ নির্বাচন। যেমন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন। আবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মধ্যবর্তী সংস্থা দ্বারা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন।
প্রশ্ন: নির্বাচন বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া বা পদ্ধতিকেই নির্বাচন বলে। ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সব নাগরিক ভোট দিয়ে প্রতিনিধি বাছাই করেন।
প্রশ্ন: নির্বাচন কমিশন কী? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব এর। এতে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন কমিশনার থাকেন। রাষ্ট্রপতি তাঁদের নিয়োগ দেন।
প্রশ্ন: নির্বাচন কমিশনের কার্যাবলি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন কার্যাবলি সম্পাদন করে। যেমন জাতীয় ও স্থানীয় সব নির্বাচন পরিচালনা, ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ, ভোটারদের পরিচয়পত্র প্রদান, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাইকরণ প্রভৃতি। এছাড়া নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ ও নির্বাচন পরিচালনা–সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন এর গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
মিজানুর রহমান, শিক্ষক
ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকা






