বাংলাদেশ: ৪১৩ ও ২৪০/৯ ডি.
পাকিস্তান: ৩৮৬ ও ১৬৩
বাংলাদেশ: ১০৪ রানে জয়ী।

বলটা যেন আগুনের গোলার মতো, সেটা মোহাম্মদ রিজওয়ানই সবচেয়ে ভালো বুঝতে পেরেছেন। দর্শকরা দেখলেন, অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে বলটা ধাঁই করে স্টাম্পে ঢুকে গেল।

১৪৭ কিমি গতির সেই বলের পথ ভুল অনুমান করে রিজওয়ান ব্যাট তুলে পথ করে দেন। বেলস লাল হয়ে জ্বলে ওঠে, মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারি লাফিয়ে ওঠে।

এটা মাত্র একটা দৃশ্য। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা এমন আরও অনেক দৃশ্য সৃষ্টি করলেন, যাতে স্বল্প দর্শকরা উল্লাসে লাফাতে বাধ্য হন।

পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের পরাজয়ের জন্য বাংলাদেশের বোলারদের প্রশংসা করা উচিত। ২৬৮ রানের লক্ষ্যে পাকিস্তানকে আটকাতে সব অস্ত্র নিয়ে তারা ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাসকিন আহমেদ ও টেস্টে দ্বিতীয় ৫ উইকেট নেওয়া নাহিদ রানা গতির জোর দেখান।

পঞ্চম দিনে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের স্পিনও কম ছিল না। পেস-স্পিনের মিশ্রণে সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তান ১০৪ রানে হেরে যায়।

দুই বছর আগে রাওয়ালপিন্ডিতে জিতা সিরিজের ধারাবাহিকতায় এই জয়ও এল পরিকল্পনামতো, বলে কয়ে! মিরপুর টেস্ট জিততে শেষ দিনে বাংলাদেশ দুটি লক্ষ্য ঠিক করেছিল। এক, সকালে ২০-২৫ ওভার ব্যাট করে লিড ২৬০-২৭০-এ নেওয়া। দুই, পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে ৭০-৭৫ ওভার বোলিংয়ের সময় রাখা।

শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ঠিক তাই ঘটে। প্রথম সেশনে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৮৮ রান যোগ করে ৯ উইকেটে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।

চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তানের টার্গেট ২৬৮। আলো থাকলে খেলা সর্বোচ্চ সন্ধ্যা ৬টা ১৫ পর্যন্ত, শেষ দুই সেশনে ৭২ ওভার সম্ভব। কিন্তু আগের চার দিন খেলা বিকেল ৫টা ৩০-এর পর যায়নি। তাই আলো থাকতে থাকতেই বোলাররা কাজ সারেন।

বাংলাদেশের ইনিংসে ১৫০ বলে ৮৭ রানে আউট অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের ‘ব্যাক টু ব্যাক’ সেঞ্চুরি না হওয়ার হতাশা থাকতে পারে। ৬৮তম ওভারে নোমান আলীর প্রথম বলে রিভার্স সুইপে এলবিডব্লিউ, রিভিউ নিয়েও বাঁচেননি।

তবু ২৬৭ রানের লিডে পাকিস্তানকে বিপদে ফেলা হয়। লাঞ্চের মিনিট ২০ আগে তাদের ব্যাটিং শুরু করিয়ে বোলাররা নাজমুলের নেতৃত্বে কাজ শুরু করেন। লাঞ্চের আগে ৪ ওভারে ইমাম-উল হককে তাসকিন কট বিহাইন্ড করে প্রথম ওভারে আউট করেন।

১ উইকেটে ৬ রানে লাঞ্চ। চা বিরতির আগে দ্বিতীয় সেশনে আরও ২ উইকেট হারায় পাকিস্তান, এই সেশনে ১১০ রান যোগ। ১৩তম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজ আজান আওয়াইসকে বোল্ড করেন। আবদুল্লাহ ফজলের সাথে ৫৪ রানের জুটি ভাঙে। দুই ওভার পর নাহিদ রানার বলে শান মাসুদ কট বিহাইন্ড। ফজল-সালমান আগার ৫১ রানের জুটি পরিস্থিতি সহজ করে।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে ধসিয়ে দিলেন নাহিদ রানা। ৩২তম ওভারে তাইজুল ইসলাম ৬৬ রানে ফজলকে এলবিডব্লিউ করেন। পরের ওভারে তাসকিন সালমান আগাকে সাদমান ইসলামের হাতে ক্যাচ আউট করান।

১২১ রানে ৫ উইকেটে পাকিস্তান পথভ্রষ্ট। জয়ের বদলে ড্রয়ের দিকে মন চলে যায়। পরের ১০ ওভারে সৌদ শাকিল-রিজওয়ান ২৮ রান যোগ করেন।

তাতেও রক্ষা পায় না। ৪৫তম ওভারে নাহিদ ৪৫, ৪৭ ও ৪৯ ওভারে ৫ রান দিয়ে সৌদ, রিজওয়ান ও নোমান আলীকে আউট করেন। ৪৮তম ওভারে তাইজুল হাসান আলীকে এলবিডব্লিউ করেন। ১৫২ থেকে ১৫৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ শেষ।

নাহিদের ক্ষুধা তখনো মেটেনি। ৫৩তম ওভারে শাহিন আফ্রিদিকে মাহমুদুল হাসানের ক্যাচে আউট করে ৫ উইকেট নেন। এটি জয়ের মুকুটে নতুন পালক যোগ করে।

সিলেটেই হবে দ্বিতীয় টেস্ট, দেখে নিন বাংলাদেশ দল