বাংলাদেশের কয়েকটি ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপ বড় অঙ্কের অর্থ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। দেশি-বিদেশি নিরীক্ষায় এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ ধরনের টাকা বের করে পাচারের জন্য তাদের শাস্তি পাওয়া উচিত। তারা চাইলে এখন পুরো টাকা ফেরত দিতে পারে। কিন্তু তাদের কারণে কয়েকটি ব্যাংক প্রায় ধ্বংসের সীমায় পৌঁছে গেছে। আমানতকারীরা টাকা ফেরতের জন্য পথে পথে ঘুরছেন। তাই তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

তারা টাকা ফেরত দিচ্ছে না বলে সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে টাকা আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। ব্যাংক লুটেরা ও অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে নতুন সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে খুব বেশি কিছু করা যাবে না। বছরের পর বছর মামলা চলতে থাকবে। তাই প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা উচিত। আরাস্তুর বাসায় গিয়ে এস আলম বলেন, ‘ইউ হ্যাভ টু স্টেপ ডাউন’।

তারা যদি টাকা ফেরত দিতে চায়, তাহলে গ্রহণযোগ্য সময় দেওয়া যেতে পারে। তবু বিদ্যমান আইন অনুসারে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে এসব অপরাধী চিহ্নিত হলেও তখন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকারকে এ ব্যাপারে জনগণের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে। না হলে মানুষের মধ্যে খারাপ ধারণা তৈরি হবে।

আইন ভঙ্গ করে ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে পাচার করেছে, তাদের বিচার অবশ্যই হতে হবে। এমন শাস্তি দিতে হবে, যাতে সবার জন্য একটা শিক্ষা হয়।

  • মোস্তফা কে মুজেরী, সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংক