দিনাজপুরের বিরল উপজেলার কামদেবপুর গ্রামে বসবাসকারী ইসমাইল হক (৬০) ১ মে বিকেল ৩টায় ফিকা জাল নিয়ে পুনর্ভবা নদীতে মাছ ধরতে যান। রাত গড়িয়ে গেলেও তিনি বাড়ি ফেরেননি। স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি করলেও কোনো সন্ধান মিলল না। পরদিন শনিবার বিরল থানায় জিডি করা হয়। একই দিন বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে অনুসন্ধান করে ব্যর্থ হয়।
দুই দিন ধরে কোনো হদিস না পাওয়ায় পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এদিকে ভারতীয় একটি টেলিভিশনে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের খবর প্রচারিত হয়। সেই খবর পশ্চিমবঙ্গের জয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা আরমান ফেসবুকে শেয়ার করেন। এটি দেখে ইসমাইলের আত্মীয় এনামুল হকের নজরে আসে। তিনি গঙ্গারামপুর থানায় গিয়ে লাশটি ইসমাইলের বলে শনাক্ত করেন।
ইসমাইলের ছোট ছেলে হায়দার আলী গতকাল রাতে মোবাইলে বলেন, কামদেবপুরের লালমাটিয়া স্লুইসগেটের কাছে বাবা মাছ ধরছিলেন। সেখান থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে ভারতে প্রবেশ করে পুনর্ভবা নদী। গেটের কপাট খুলে দেওয়ায় সম্ভবত বাবা ভেসে গেছেন। তিন দিন পর লাশের ছবি দেখে তারা নিশ্চিত হন। ৫ মে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লাশ ফেরত আনার আবেদন করা হয়।
নানা দৌড়ঝাঁপের পর নিখোঁজের ১১ দিন পূর্ণ হয়েছে আজ মঙ্গলবার। দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে ইসমাইলের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কাছে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা এখনও পৌঁছায়নি। দিনাজপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “লাশ হস্তান্তরের বিষয়ে কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও বিজিবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলেছি, সোমবার রাত ১১টা পর্যন্ত তাঁদের কাছেও এ ধরনের কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে সীমান্ত থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে নদীতে লাশটি পাওয়ায় ভারতীয় আইন অনুযায়ী গঙ্গারামপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে বলে জেনেছি। এখন লাশ হস্তান্তর একটি প্রক্রিয়াধীন ব্যাপার।”
ইসমাইল তিন মেয়ে ও দুই ছেলের জনক ছিলেন। নদীতে মাছ ধরেই তারা জীবিকা নির্বাহ করতেন।






