মিরপুর টেস্টে রোমাঞ্চকর শেষের সম্ভাবনা স্পষ্ট। চতুর্থ দিনের শেষে দুই দলের সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান বাংলাদেশকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে।

চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে করেছে ১৫২ রান, লিড ১৭৯ রানের। দিনের শেষে কিছুটা ধীরগতির ব্যাটিং এবং আগামীকাল সকালে আরও কিছু ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনা স্বাগতিকদের। তারপর বোলারদের ওপর ভরসা।

দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল সংবাদ সম্মেলনে এই পরিকল্পনা জানিয়ে বলেন, “আমরা জেতার জন্য খেলছি। আমাদের যে বোলিং আক্রমণ, যদি বৃষ্টি না হয় ৯৮ ওভার খেলার সুযোগ থাকবে। এর মধ্যে ৭৫ ওভার বোলিং করতে পারলে আমাদের জেতার সুযোগ থাকবে।”

এর জবাবে পাকিস্তানের অলরাউন্ডার সালমান আগা সংবাদ সম্মেলনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। তাঁর ধারণা, বাংলাদেশ ৭০-৭৫ ওভারে ২৬০ রানের লক্ষ্য দেবে না। সালমান বলেন, “অবশ্যই আমরা জেতার জন্য যাব। যদি তারা যথেষ্ট সাহসী হয় এটা করার জন্য, ৭০ ওভারে ২৬০ রানের লক্ষ্য দেয়, আমরা তাহলে তা তাড়া করব। কিন্তু আমার মনে হয় না তারা তা করবে।”

চতুর্থ দিনে বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের ব্যাটিং পরিকল্পনায় ব্যাঘাত ঘটে। একটি সেশন পুরোপুরি ভেসে যায়। সারাদিনে হয় মাত্র ৪৮.৪ ওভার। প্রথম ইনিংসে ওভারপ্রতি সাড়ে তিনের বেশি গড়ে রান তুললেও দ্বিতীয় ইনিংসে গড় ৩.০১। বৃষ্টির পর লিড দেড়শো ছাড়িয়ে যায়।

রানের গতি বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল কি? আশরাফুল বলেন, “টেস্ট ক্রিকেট যেভাবে খেলতে হয়, ওইভাবেই খেলেছে। বৃষ্টি তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আমি বলব উইকেটে যে সাহায্য আছে, আমরা যদি কাল সকালে একটু ভালো ব্যাটিং করে ছেড়ে দেই, এই ম্যাচ জেতা সম্ভব।”

সালমানের মতে, বাংলাদেশকে দ্রুত অলআউট করে পাকিস্তান জয়ের লক্ষ্য নেবে। তবে বাংলাদেশ যদি ২০-২৫ ওভারে ১০০-১২০ রান যোগ করে ছেড়ে দেয়? সালমান বলেন, “যদি তারা তা করে, তাহলে তো খুবই ভালো, কিন্তু এটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে। আমি অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে চাই তারা এমন করুক।”

তিনি আরও বলেন, “ও রকম কিছু করলে দুই দিকেই খেলাটা থাকবে। তাদের জন্য প্রথম প্রাধান্য পাবে আমাদের থেকে ম্যাচটা কেড়ে নেওয়া, তারপর যা করতে চায় করবে। কিন্তু যদি তারা ৭০ ওভারে ২৬০-৭০ রান দেয়, আমরা তাড়া করে ফেলব।”