দেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান তাঁর প্রিয় ট্র্যাকে ফিরে এসেছেন। ১৭-১৯ মে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ৪৯তম জাতীয় অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার স্প্রিন্টে শিরোপা লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার জন্য ইংল্যান্ড থেকে গতকাল ঢাকায় পৌঁছেছেন তিনি।

ইংল্যান্ডে নিজের কর্মস্থল থেকে ৯ দিনের ছুটি নিয়ে দেশে এসেছেন ইমরানুর। জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ বেলা ১১টা থেকে দুই ঘণ্টা ট্র্যাকে ঘাম ঝরিয়ে অনুশীলন করেন তিনি। শিরোপা ধরে রাখার প্রস্তুতিতে কোনো ত্রুটি রাখতে চান না। অনুশীলন শেষে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আমার লক্ষ্য এখন একটাই—জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে সেরা নৈপুণ্য দেখানো ও দ্রুততম মানবের খেতাব ধরে রাখা।” প্রতিযোগিতার প্রথম দিনেই ১০০ মিটার দৌড় হবে। এবার তিনি ২০০ মিটারেও অংশ নিতে পারেন।

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ৪৮তম জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে চোটের কারণে খেলতে পারেননি ইমরানুর। তাঁর অনুপস্থিতিতে মোহাম্মদ ইসমাইল দেশের দ্রুততম মানবের খেতাব পুনরুদ্ধার করেন। তবে গত বছর আগস্টে জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসে ইমরানুর ট্র্যাকে ফিরে ১০০ মিটারে শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পান। সেবার তাঁর সময় ছিল ১০.৬৪ সেকেন্ড (ইলেকট্রনিক)। এবার তিনি টাইমিং উন্নত করে ১০০ মিটার জিততে চান।

২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকের পর থেকে ফিটনেস নিয়ে কিছুটা সমস্যায় ছিলেন ইমরানুর। কিন্তু এখন তিনি নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, “বর্তমানে ফিটনেস ঠিক আছে, বড় কোনো সমস্যা নেই। আশা করি জাতীয় প্রতিযোগিতায় ভালো করব এবং ১০০ মিটারে জিতব।” এবারও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হয়ে চ্যাম্পিয়নশিপে লড়বেন তিনি।

ইংল্যান্ডের শেফিল্ডে জন্মগ্রহণকর্তা ৩২ বছর বয়সী এই স্প্রিন্টার ২০২২ সালে প্রথমবার বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসে অংশ নিয়ে রেকর্ড গড়ে সোনা জেতেন। ২০২৩ সালে এশিয়ান ইনডোরে ৬০ মিটারে সোনা জিতে ইতিহাস রচনা করেন ইমরানুর। এটি এশিয়ান পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য বিশাল প্রাপ্তি ছিল। এরপর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তেমন পরিচয় পাননি। সম্প্রতি পোল্যান্ডে বিশ্ব ইনডোরে ৩৭তম হন তিনি; ৬.৭১ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করেন, যা সেমিফাইনালে নিয়ে যায়নি।

চীনের তিয়ানজিনে গত ফেব্রুয়ারিতে ১২তম এশিয়ান ইনডোর চ্যাম্পিয়নশিপে ৬০ মিটার স্প্রিন্টে সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়েন। সেখানে ৬.৭৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে আটজনের মধ্যে তৃতীয় হয়ে ফাইনাল থেকে ছিটকে যান।