গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরু চুরির অভিযোগে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। এ দুই মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত এসব মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
নিহতরা হলেন সিলেট সদর থানার ঘাসিটোলার কমলা কান্তের ছেলে কৃষাণ (৪৬), গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা বদনী ভাংনা এলাকার শরাফত আলীর ছেলে আজহারুল ইসলাম (৩৬) এবং রাজধানীর মিরপুরের মধ্য পীরেরবাগ এলাকার আবদুল বারেকের ছেলে মো. সেলিম (৩৮)। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিরা পেশাদার গরুচোর ও ডাকাত ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার বাগচালা এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়িতে গরু চুরির ঘটনায় তিনি নিজেই বাদী হয়ে নিহত তিন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এছাড়া গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে তিন ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় কালিয়াকৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায়ও অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে আজ সকাল পর্যন্ত এ দুই মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এলাকাবাসী ও পুলিশের বক্তব্য, ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ গরুচোর চক্র একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে বাগচালা এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়িতে যায়। এ সময় বাড়ির মালিক বিষয়টি টের পেয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাক দিলে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায়ে জনতা তালা কাটার সরঞ্জাম, চাপাতি, দাসসহ তিনজনকে আটক করে পিটুনি দেয়। পরে তাঁদের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা-পুলিশ ও ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, "গরু লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী ধাওয়া করে তিনজনকে আটক করলেও সাত থেকে আটজন চোর পালিয়ে যান। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।"






