শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান পদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা ভয়েস) অংশ নেওয়ার জন্য প্রার্থীদের জ্ঞান-দক্ষতার প্রস্তুতির পাশাপাশি অন্যান্য ব্যাপারগুলো কীভাবে সামলাবেন, সেটা নিয়ে এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা। এখান থেকে আপনার জানা তথ্যগুলো যাচাই করে নিতে পারেন বা আরও সমৃদ্ধ করতে পারেন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন মৌখিক পরীক্ষার প্রবেশপত্র, লিখিত পরীক্ষার ফলাফলপত্র এবং যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও কৃতিত্বের প্রমাণপত্রগুলোর মূল কপি অফিশিয়াল ব্যাগে নিয়ে ভাইভা বোর্ডে যান। শিক্ষার্থীদের সনদের মতো হালকা ফাইল এড়িয়ে চলাই ভালো। তবে কর্তৃপক্ষ চাইলে দেখান, নইলে আগে বাড়িয়ে দেখাবেন না। একটি ভালো কলম অবশ্যই সঙ্গে রাখুন। মোবাইল ফোন থাকলে সাইলেন্ট করে ভাইব্রেশন বন্ধ রাখুন, কারণ পরীক্ষার সময় ভাইব্রেট হলে মনোযোগ নষ্ট হবে।

.চট্টগ্রামে দুই কর অঞ্চলে ২৫২ পদে চাকরি.

সাজপোশাক পরিপাটি, পরিচ্ছন্ন, মার্জিত এবং ফরমাল রাখুন। অতিরিক্ত সাজগোজ এড়ান। জামাকাপড় হালকা রঙের হোক। কালো গ্লাসের চশমা বা ভারী গয়না পরবেন না। বেশি জাঁকজমক বা অত্যধিক সাদামাটা নয়। এমন জুতা পরবেন না যাতে হাঁটতে শব্দ হয় বা অতিরিক্ত সতর্কতা লাগে। অভ্যস্ত নন এমন পোশাক এড়িয়ে চলুন। জামা, চুল, চশমা এমন হোক না যাতে বারবার ঠিক করতে হয়।

নির্ধারিত সময়ের অন্তত এক ঘণ্টা আগে ভাইভা ভেন্যুতে পৌঁছে যান। এতে মানসিক চাপ কমবে। অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক কথা বলুন। প্রয়োজনে হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হন, কিছু খেয়ে নিন। প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও দৃশ্যমান দিকগুলো মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করুন, সংগতি-অসংগতি মনে রাখুন—এসব নিয়ে প্রশ্ন আসতে পারে। গতিবিধি সংযত রাখুন, কারণ সিসিটিভি ক্যামেরায় আপনি থাকতে পারেন। সাক্ষাৎকার কক্ষে প্রবেশের আগে অনুমতি নিন।

.বগুড়ায় সরকারি অফিসে দুটি গ্রেডে বড় নিয়োগ, পদ ১৫৫.

মৌখিক পরীক্ষার কক্ষে বসতে বলা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, নিজে থেকে অনুমতি চান না। নির্ধারিত চেয়ারের পেছনে বা পাশে দাঁড়িয়ে সালাম করুন। বসার অনুমতি পেলে চেয়ার ঠিক যেখানে আছে সেখানেই বসুন, সামনে-পেছনে টানবেন না। স্বাভাবিকভাবে বসুন, টানটান বা কাঁচুমাচু হবেন না। পায়ের ওপর পা তুলবেন না বা টেবিলে হাত রাখবেন না।

কোনো মুদ্রাদোষ থাকলে এড়ান। বারবার নাক বা অঙ্গে হাত দেওয়া, হাত কচলানো, গলা পরিষ্কার করা, এ্যা-এ্যা করা, ঘাড় মটকানো, পা দোলানো, চেয়ার ঘোরানো, জামা-চুল-চশমা ঠিক করা ইত্যাদি যতটা সম্ভব বন্ধ করুন। এগুলো অন্যদের বিরক্ত করে এবং ব্যক্তিত্বের দুর্বলতা প্রকাশ করে।

প্রশ্ন মনোযোগ দিয়ে শুনে বুঝে উত্তর দিন। না বুঝলে বলুন: “দুঃখিত, প্রশ্নটি আমি ঠিক বুঝতে পারিনি!” প্রশ্নকর্তার দিকে তাকিয়ে উত্তর দিন, কেউ না করলে সবার দিকে তাকান। জানা না থাকলে বলুন: “দুঃখিত, এটি আমার জানা নেই।” নার্ভাস হবেন না, পাজল হবেন না। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দিন। পরিমিত স্বরে কথা বলুন যাতে সবাই শুনতে পায়, অতিরিক্ত উঁচু বা নিচু স্বর নয়।

.বিনা খরচে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা ফুলব্রাইট ফরেন স্কলারশিপে, আইইএলটিএসে ৭ স্কোরে আবেদন .

নিজের সম্পর্কে বলতে বললে পরিবারের ব্যাপার কম বলে নিজের নাম, জেলা, শিক্ষা, শখ, কর্ম, আগ্রহ, অভিজ্ঞতা, কৃতিত্ব, পরিকল্পনা সংক্ষেপে তুলে ধরুন।

রাজনৈতিক প্রশ্নে রাজনৈতিক বক্তব্য না দিয়ে শিক্ষক হিসেবে তথ্যসমৃদ্ধ শিক্ষণীয় উত্তর দিন। ধর্মীয় বা সমসাময়িক প্রশ্নে রেফারেন্স দিন।

প্রশ্নকর্তাদের শিক্ষক বা নিজেকে শিক্ষার্থী মনে করবেন না, আবার নিজেকে প্রধান করে অন্যকে ছোট করবেন না। মুখস্থ নয়, আলোচনামূলকভাবে জ্ঞানের গভীরতা দেখান। অতিরিক্ত গম্ভীর বা উচ্ছলতা এড়ান। মনে রাখবেন, আপনি প্রতিষ্ঠানপ্রধান হওয়ার জন্য পরীক্ষা দিচ্ছেন।

প্রশ্ন বাংলায় হলে বাংলায়, ইংরেজিতে হলে ইংরেজিতে উত্তর দিন। শুদ্ধ ভাষা, সঠিক বাক্য, স্পষ্ট উচ্চারণে বলুন। অজানা বিষয় সংক্ষিপ্ত, জানা বিষয় বিস্তারিত বলুন যাতে সম্পূরক প্রশ্ন আসে, তবে বাচাল হবেন না।

.সরকারিভাবে ফিজিতে চাকরির সুযোগ, পদ ১০৫.

একাধিক শুদ্ধ উত্তরের প্রশ্নে আপনার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দিন। সব ধর্ম-বর্ণ, জাতি-লিঙ্গ, সম্প্রদায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রাখুন। নিজেকে সবজান্তা প্রমাণ করবেন না, ভদ্রতা বজায় রাখুন।

ভাইভা শেষে সবাইকে ধন্যবাদ দিন। তাড়াহুড়ো বা মন্থর গতি দেখাবেন না। চেয়ার থেকে উঠে হাসিমুখে সালাম করে পিছিয়ে আসুন, শব্দ না করে। তারপর মুখ ফিরিয়ে দৃঢ় পায়ে বেরিয়ে আসুন।

এসব বিষয় মেনে নিজেকে বুদ্ধিমান, বাগ্মী, যুক্তিপূর্ণ, নৈতিক, সৎসাহসী, আত্মবিশ্বাসী, আন্তরিক, উত্তম ব্যক্তিত্বের এবং শারীরিক-মানসিকভাবে সক্ষম হিসেবে উপস্থাপন করুন।

*লেখক: মো. রহমত উল্লাহ্, সাবেক অধ্যক্ষ