নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা ঘটনায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষকের তিন দিনের পুলিশি রিমান্ড শেষ হয়েছে। আজ রোববার বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, আজ বিকেলে শিক্ষককে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি (পিপি) নূরুল কবির (রুবেল) জানান, আদালত ২১ মে তাকে আবার হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।

নূরুল কবির বলেন, ‘জেলা আইনজীবী সমিতির একজন সদস্য মারা গেছেন। এ জন্য আজ আইনজীবীরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। কোনো আইনজীবী না থাকায় উন্মুক্ত আদালতে আসামিকে উপস্থাপন করা হয়নি। ২১ মে আসামিকে আবার আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।’

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে আমরা এখনই কিছু বলছি না।’

অজ্ঞাত স্থান থেকে ভিডিও বক্তব্য দিলেন আসামি, খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্র জানায়, শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে কওমি মহিলা মাদ্রাসাটিতে লেখাপড়া করত। শিশুটির বাবা তার মাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় জীবিকার তাগিদে মা সিলেটে একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থ বোধ করছিল এবং তার মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়। পরে তার মা সিলেট থেকে এসে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে গত ১৮ এপ্রিল শিশুটিকে মদন পৌর শহরে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। পরে এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে ২৩ এপ্রিল থানায় মামলা করেন, যাতে আসামি করা হয় ওই মাদ্রাসাশিক্ষককে।