প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মাত্র ৩৩ ম্যাচ খেলেই আজান আওয়াইস ১০ সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন, যার মধ্যে আছে ডাবল সেঞ্চুরিও। আগেও তিনি সেঞ্চুরি করেছেন বটে, কিন্তু আজকের এই তিন অঙ্কের ইনিংস তাঁর জন্য বিশেষ আনন্দের। কারণ, এটা এসেছে তাঁর টেস্ট অভিষেক ম্যাচে!
মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে ঠান্ডা মাথায় পুরো ইনিংস খেলে সেঞ্চুরির উদযাপনে পাকিস্তানের এই বাঁহাতি ওপেনার একটু আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বললেন, মানুষ হিসেবে তিনি নরম স্বভাবেরই। যদিও এক প্রশ্নে তাঁর কথায় সামান্য ঝাঁজও লাগল।
আজ বাংলাদেশের গতিময় পেসার নাহিদ রানার প্রথম বলটাই লেগেছিল আজানের হেলমেটে। কনকাশন পরীক্ষায় ম্যাচ পাঁচ মিনিট বন্ধ ছিল। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেছেন, “আমি নার্ভাস হইনি; কিন্তু যখন বলটা হেলমেটে লাগল, মিনিট পাঁচেকের মতো মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলাম। এরপর বুঝতে পারলাম, আমি কে, তা দেখিয়ে দেওয়ার এটাই সময়।”
সেই ঘটনার সময় আজান ১৩ বলে ৭ রানে ব্যাট করছিলেন। পরে তিনি পাকিস্তানের ৭৬ বছরের টেস্ট ইতিহাসে ১৫তম ক্রিকেটার হয়েছেন, যিনি বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করেছেন। ২০০১ সালে মুলতান টেস্টে তৌফিক উমর ১০৪ রান করে এমন সাফল্য পেয়েছিলেন।
দুই বছর পর করাচিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টে ইয়াসির হামিদও সেঞ্চুরি করেন। আজানের ভবিষ্যতে বড় তারকা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার রমিজ রাজা ধারাবাহিকভাবে উচ্চ প্রশংসা করেছেন।
দলের জন্য অবদান রাখতে পেরে আজানের ভালো লাগছে। তিনি বলেছেন, “খুব ভালো একটা অনুভূতি, কারণ এটা আমার অভিষেক ম্যাচ। আর আমি আমার দেশের জন্য খুব ভালো খেলেছি। যখন ব্যাটিং করতে যাচ্ছিলাম, তখন কিছুটা নার্ভাস ছিলাম; কিন্তু আমি আমার দলের জন্য ভালো খেলতে পেরেছি।”
‘মিরপুরে কত রান নিরাপদ, বলতে পারবেন না’
বাবার হাত ধরে ক্রিকেট শুরু করা আজান এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নজর কাড়ছেন। তবে এই জগৎ কঠিন, তা তিনি বুঝতে পেরেছেন। তিনি বলেছেন, “আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কঠিন। কারণ, আপনার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ পরিকল্পনা করবে কোথায় বল করতে হবে তা নিয়েও, আপনাকেই এসবের সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।”
নাহিদের বাউন্সার খেয়ে আজান ঠিক সেই সমাধান খুঁজে পেয়েছেন। নিজেকে প্রমাণ করার প্রতিজ্ঞায় তিনি অভিষেক টেস্টটাকে সেঞ্চুরির রঙে রাঙিয়ে দিয়েছেন।






