পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে অফিস করবেন না। তাঁর জন্য কলকাতার ঐতিহ্যবাহী লাল রঙের রাইটার্স বিল্ডিং সাজানো হচ্ছে। তবে এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় আপাতত তাঁর দপ্তর থাকবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে। এটি ছিল সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা ভবনের দপ্তর, যা এখন সাজিয়ে তোলা হয়েছে।
ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) আগেই ঘোষণা করেছিল, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সচিবালয় হাওড়ার নবান্ন থেকে কলকাতার বিবাদী বাগের রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ফিরিয়ে আনা হবে। ভবন সম্পূর্ণ প্রস্তুত হলে তৃতীয় তলায় বসবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। মেরামত ও সাজসজ্জার কাজ শেষ হলে রাজ্য সচিবালয় সেখানে ফিরে যাবে। যুগ যুগান্ত এই রাইটার্স বিল্ডিংয়েই ছিল পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয়। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর মমতা ২০১৩ সালে এটি হাওড়ার নবান্নে নিয়ে যান। এবার শুভেন্দু জিতে সচিবালয় ঐতিহ্যবাহী রাইটার্সে ফিরিয়ে আনছেন। ইতিমধ্যে রাইটার্সে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ সাবেক মন্ত্রীদের কক্ষের নামফলক তুলে ফেলা হয়েছে। বিধানসভা ভবনের মুখ্যমন্ত্রীর কক্ষের নামফলকে মমতার পরিবর্তে শুভেন্দু অধিকারীর নাম বসানো হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেস প্রচার করেছিল, বিজেপি বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবিরোধী। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে যাবে—এমন কথা বলা হয়েছিল। গতকাল শনিবার কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যেন এই প্রচারের জবাব দিয়েছে বিজেপি। অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী এসেছিলেন সাদা ধুতি ও গেরুয়া রঙের ফতুয়া পরে। দলের ২০৭ বিধায়কও ধুতি-পাঞ্জাবি পরে উপস্থিত ছিলেন।
শপথ গ্রহণ মঞ্চে উঠেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে ফুল ছিটিয়ে প্রণাম জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারপর বাংলার মানুষকে, বাংলার মাটিকে হাঁটু গেড়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন মোদি। শপথের আগে শুভেন্দু অধিকারীও রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে ২৫ বৈশাখ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যাত্রা শুরুর দিন ঠিক করে বিজেপি। শপথ নেওয়ার পর প্রথমে শুভেন্দু যান কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে। সেখানে কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে সম্মান জানান।
ঠাকুরবাড়িতে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বাংলার অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে গেছে। শিক্ষা হারিয়ে গেছে। এবার আমরা এই বাংলাকে নবনির্মাণ করব। আমাদের অনেক দায়িত্ব এসে গেছে। এখন একে অপরের সমালোচনা করার সময় নেই; বরং সবাই এসে বাংলাকে নতুন করে গড়ুন।’
গতকালের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ বাঙালিয়ানায় হয়। শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেন বাংলা ভাষায়। একই সঙ্গে আরও পাঁচ মন্ত্রীর মধ্যে চারজন বাংলায় এবং একজন সাঁওতালি ভাষায় শপথ নেন।






