একটি সমাজ ধীরে ধীরে বদলে যায়, যখন মানুষ এখনও তা ঠিক বুঝে ওঠেনি। কানাডার লেখিকা মার্গারেট অ্যাটউড এই ধরনের গল্প বারবার লিখেছেন। তিনি শুধু কল্পকাহিনি সৃষ্টি করেননি, চারপাশের বাস্তবতাকেও তুলে ধরেছেন। ক্ষমতা, ভয়, নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষের লড়াইকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যে পাঠক নিজের যুগকে নতুনভাবে চিনতে পারেন। তাঁকে বোঝার জন্য একটি বই নয়, কয়েকটি উপন্যাস একসঙ্গে পড়তে হবে।

দ্য হ্যান্ডমেইড’স টেল (১৯৮৫)

গিলিয়াদ নামক রাষ্ট্রে নারীদের কোনো স্বাধীনতা নেই। সেখানে নারী বলতে শুধু সন্তান জন্মদাত্রীকে বোঝানো হয়। অ্যাটউড এখানে কোনো কাল্পনিক ভবিষ্যৎ দেখাননি; বরং ইতিহাসের ভয়াবহ ঘটনার মতো বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। অফ্রেড নামের এক নারীর চোখ দিয়ে দেখিয়েছেন, এক সমাজ কীভাবে বর্বর হয়ে ওঠে।

অ্যালিয়াস গ্রেস (১৯৯৬)

এটি একটি সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে লেখা। গ্রেস মার্কস নামের তরুণী গৃহকর্মীকে খুনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। একজন চিকিৎসক চেষ্টা করেন বোঝার, সে সত্যিই অপরাধী নাকি পরিস্থিতির শিকার। গল্প এমনভাবে বলা যে কখনো সত্য মনে হয়, কখনো সন্দেহ জাগে। শেষে বোঝা যায়, আসলে কে সত্য গড়ে তুলছে? সমাজ, মিডিয়া ও বিচারব্যবস্থা কীভাবে এক নারীর ওপর নিজেদের ধারণা চাপায়, তা এখানে দেখানো হয়েছে।

ক্যাটস আই (১৯৮৮)

একজন শিল্পী শৈশবের শহরে ফিরে পুরোনো স্মৃতি তুলে ধরেন। ছোটবেলায় কয়েক বান্ধবীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠলেও তারা তাঁকে কষ্ট দিয়েছে। গল্পটি দেখায়, শৈশবের মানসিক আঘাত কতটা গভীর হতে পারে এবং বড় হয়ে সেগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলে।

ওরিক্স অ্যান্ড ক্রেক (২০০৩)

এখানে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেছে। একজন মানুষ বেঁচে আছেন, তাঁর সঙ্গে জিনপরিবর্তন করা নতুন প্রাণী। ধীরে ধীরে জানা যায়, এক বিজ্ঞানী মানুষকে ‘ভালো’ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনে। বিজ্ঞানের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ না করলে কী হয়, তা এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

দ্য টেস্টামেন্টস (২০১৯)

এটি দ্য হ্যান্ডমেইড’স টেল–এর পরবর্তী গল্প। গিলিয়াদ রাষ্ট্র ভেতর থেকে দুর্বল হতে শুরু করে। তিনজন আলাদা ব্যক্তির চোখ দিয়ে সমাজের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও এক রাষ্ট্রের ভাঙন দেখা যায়।

১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণকারী মার্গারেট অ্যাটউড ক্ষমতা, পরিবেশের সমস্যা ও মানুষের গল্প লেখেন। বুকার পুরস্কারসহ অনেক বড় পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। তাঁর লেখায় বর্তমান পৃথিবীর সঙ্গে অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

সূত্র: ন্যাশনাল পোস্ট