ব্যক্তি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় গত ৩১ মার্চ শেষ হয়েছে। তবে অনিবার্য কারণে এখনো রিটার্ন দিতে না পারা করদাতাদের জন্য সুযোগ রয়েছে। তারা এখনো রিটার্ন জমা দিতে পারবেন, তবে জরিমানা দিতে হবে এবং কিছু কর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।

আগের দুই বছর পর্যন্ত বকেয়া রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। এতে খরচ বাড়লেও বিপদ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। কারণ এক বছর রিটার্ন না দিলে পরবর্তী সময়ে রিটার্ন জমা করতে গেলে না দেওয়ার যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করতে হয়।

বর্তমানে প্রায় সোয়া এক কোটি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএনধারী) রয়েছেন। গতবার প্রায় সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন, বাকিরা দেননি।

জরিমানা কত, কী কর–সুবিধা মিলবে না

এবছর থেকে প্রায় সব করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক। সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় জরিমানা গণনা হবে এবং কিছু সুবিধা হারাবেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওয়েবসাইটে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে হবে, কারও অনুমতি লাগবে না। আরোপিত করের ওপর ২ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে, সর্বোচ্চ ২৪ মাসের জন্য ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত। ৩৬৫ দিন অনলাইনে রিটার্ন দেওয়া যাবে।

নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন দিলে কোনো কর রেয়াত পাওয়া যাবে না। যেমন সরকার নির্ধারিত নয়টি খাতে বিনিয়োগে করছাড় পাওয়া যায়, কিন্তু এখন তা মিলবে না।

বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের নিয়ম হলো মোট আয়ের দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ; মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ কিংবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা—এই তিনের মধ্যে যেটি কম।

অনলাইনে রিটার্ন জমা ও কর পরিশোধ ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কার্ড পেমেন্ট (ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড) ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সম্ভব। এছাড়া রিটার্নের কপি, প্রাপ্তি স্বীকারপত্র, আয়কর সনদ, টিআইএন সনদ ডাউনলোড ও প্রিন্টের সুবিধা রয়েছে।

এনবিআরের কর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন টিআইএনধারীদের দুই-তৃতীয়াংশই রিটার্ন দেন না। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সরকারি–বেসরকারি সেবায় টিআইএন ও রিটার্ন বাধ্যতামূলক হওয়ায় অনেকে শুধু সেবার জন্য টিআইএন নিয়ে রিটার্ন দেন না।

যাঁদের জরিমানা হবে না

গত ৩১ মার্চের আগে আবেদন করে রিটার্ন জমা সময় বাড়ানো করদাতাদের জরিমানা আরোপ হবে না। তারা করছাড়–সুবিধা পাবেন এবং বাড়ানো সময়ের মধ্যে নিয়মিত পদ্ধতিতেই রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।