বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ কে হবেন? ফুটবল পাড়ায় এখন এই প্রশ্নই প্রধান আলোচনার বিষয়। বাফুফের ভবনে নতুন কোচ নিয়োগের জন্য তোড়জোড় চলছে। এবার এমন একটি প্রক্রিয়ায় কোচ নির্বাচন করা হচ্ছে, যা দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন।
আগে বাফুফে হঠাৎ করে অনভিজ্ঞ কাউকে কোচ করে নিয়ে আসত। সর্বশেষ কোচ হাভিয়ের কাবরেরার জাতীয় দল নিয়ে কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না। তবু তাঁকে চার বছর ধরে দলে রাখা হয়। এমন অনভিজ্ঞ কোচ নিয়োগ অতীতের ধারাবাহিকতা ছিল। কিন্তু এবার বাফুফে অভিজ্ঞ ও পেশাদার কোচের দিকে ঝুঁকেছে।
বাফুফের সূত্র অনুযায়ী, জাতীয় দলের কোচ পদে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভাবনীয় সাড়া পাওয়া গেছে। মোট ২৩০টি আবেদন জমা পড়েছে। বিদেশি কোচদের এই আগ্রহের পেছনে হামজা চৌধুরীকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর হামজা জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার পর বিশ্ব ফুটবলে বাংলাদেশ নিয়ে কৌতূহল বেড়েছে।
আবেদনকারীদের মধ্যে ১৭০ জন ছিলেন উয়েফা প্রো-লাইসেন্সধারী কোচ। কয়েক ধাপের বাছাইয়ের পর প্রাথমিক তালিকায় ১০০ জন এবং পরে ২৩ জনকে রাখা হয়। বিচার-বিশ্লেষণের শেষে সাক্ষাৎকারের জন্য মাত্র ১১ জনকে মনোনীত করা হয়।
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল গত পরশু সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রোববার অর্থাৎ আজ কোচের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং ১৫ মিনিটের মধ্যে নতুন কোচের সঙ্গে চুক্তি সেরে ফেলবে ফেডারেশন। তবে আজই নাম জানা যাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। বাফুফের সূত্র বলছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আরও দুই-এক দিন লাগতে পারে।
কোচ পদের দৌড়ে বিশ্ব ফুটবলের পরিচিত নাম শোনা যাচ্ছে। তালিকার শীর্ষে ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যান। গ্যারেথ বেলদের মতো তারকাদের সামলানো কোলম্যান ক্লাব ফুটবলে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলেছেন এবং কোচ হিসেবে রিয়াল সোসিয়েদাদ, সান্ডারল্যান্ড ও ফুলহামের মতো ক্লাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। গতকাল অনলাইনে তাঁর সাক্ষাৎকার হয়েছে।
৫৫ বছর বয়সী কোলম্যানের পাশাপাশি হাঙ্গেরির সাবেক জার্মান কোচ বার্নড স্টর্কও আলোচনায়। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে ১৪৬টি সহ বুন্দেসলিগায় ১৭০ ম্যাচ খেলা এই সাবেক ডিফেন্ডার হাঙ্গেরি ও কাজাখস্তানের কোচও হয়েছেন। ৬৩ বছরের স্টর্ক বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সহকারী কোচ ছিলেন। বাফুফের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এই দুজনের মধ্যে একজনের সম্ভাবনা বেশি।
এই নাম দুটি ছাড়িয়ে রোজেরিও মিকেলের নাম চমক হিসেবে এসেছিল। ২০১৬ রিও অলিম্পিকে নেইমারদের সোনা জিতিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান। নেইমারের বাংলাদেশি বন্ধু রবিন মিয়ার মাধ্যমে তিনি আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তবে বাফুফের সিদ্ধান্তে দেরি হওয়ায় মিকেল দৌড় থেকে সরে গেছেন।
ও’গ্লোবোসহ ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মিকেল ৮ মে ব্রাজিলের দ্বিতীয় বিভাগের লন্ড্রিনা এসপোর্ত ক্লাবের প্রধান কোচ হয়েছেন। এই ক্লাবে তিনি একসময় খেলেছেন। বাফুফের সূত্র বলছে, মিকেল সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিলেন এবং ৩০ হাজার ডলার বেতন চেয়েছিলেন।
আগে মাসে ৮-১০ হাজার ডলার বেতনে কোচ নিত, এবার ১৫-২০ হাজার ডলার বাজেট রাখছে বাফুফে। হাই প্রোফাইল কোচ নিশ্চিত করতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে গত পরশু দেখা করেছে বাফুফে কর্তারা। আমিনুল ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন। ফলে ২৫-৩০ হাজার ডলার মাসিক পারিশ্রমিকে কোচ নেওয়া সম্ভব হতে পারে।
কিন্তু ক্রিস কোলম্যান-স্টর্কদের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত বাজেট মিলবে কি? তারা নিজস্ব কোচিং স্টাফ নিয়ে আসতে চাইলে বাফুফে সামলাতে পারবে কি? এমন কোচরা যে সুযোগ-সুবিধা চাইবেন, তা দিতে পারবে কি না—এ প্রশ্ন রয়েছে।






