চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতে কেওড়াগাছে বাঁধা দোলনায় বসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এতে ছয় পর্যটকসহ মোট আটজন আহত হন।

আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাসময় পর্যটকদের একজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন করে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতরা হলেন শেখ জাহিল আবরার (২১), তাজিম (২৪), মো. রাজু (২২), মো. ফজলে রাব্বি (২১), মো. রাদ (২১), সৈয়দ তাসফিকুল ইসলাম (২৫), মো. আলিফ (২১) ও মেহেদী হাসান (২২)। আহত পর্যটকরা সবাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সের (ইউআইটিএস) শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন। তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আহত পর্যটকদের একজন মেহেদী হাসান মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, গতকাল শুক্রবার তাঁরা তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের ২২ জন শিক্ষার্থী সীতাকুণ্ডে বেড়াতে আসেন। তাঁরা চন্দ্রনাথ মন্দিরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। আজ বিকেলে তাঁদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। সেইজন্য খুব সকালে তারা গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতে যান। তখনো সৈকতের দোকানপাট খোলেনি। গুলিয়াখালী সৈকতে বিভিন্ন গাছের সঙ্গে কিছু দোলনা রয়েছে। সেগুলোতে বসতে হলে যে টাকা দিতে হয়, তা তাঁরা জানতেন না। সকাল থেকে তারা দোলনাগুলোতে বসে ছবি তুলেছেন এবং দৃশ্য উপভোগ করেছেন।

মেহেদী হাসান বলেন, সকাল সাড়ে দশটার দিকে তাঁদের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী উপকূলের দিকে ঘুরছিলেন, তখন তাঁদের দুজন বন্ধু একটি দোলনায় বসেছিলেন। এ সময় সেখানকার এক দোকানদার এসে দোলনায় বসা নিয়ে আপত্তি তুললে তর্ক হয়। তারা দূর থেকে বিষয়টি লক্ষ্য করেন। এরপর কয়েকজন মিলে মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। ততক্ষণে দোকানদার স্থানীয় কিছু লোকজনকে ডেকে আনেন। স্থানীয়রা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। পরে তিনি কিছুটা দূরে গিয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ এসে তাঁদের উদ্ধার করে। তাঁরা সীতাকুণ্ড থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত কমিটির সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, গুলিয়াখালী সৈকত এলাকায় ঢাকা থেকে আসা কয়েকজন পর্যটক একটি দোলনায় বসতে গিয়ে দড়ি ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় স্থানীয় দোকানদারদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা মারামারিতে পরিণত হয়। এতে উভয় পক্ষের আটজন আহত হন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন বলেন, গুলিয়াখালী সৈকতে মারামারির ঘটনায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আহত অবস্থায় আটজনকে আনা হয়েছে। তাঁদের কারও মারাত্মক জখম ছিল না। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, গুলিয়াখালীতে পর্যটকদের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের একটি ঝামেলা হয়েছে, এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ দেখে স্থানীয় দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ আহত পর্যটকদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। পর্যটকেরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।