নাহিদ রানার প্রথম ওভারের প্রথম বলেই পাকিস্তানের ওপেনার আজান আওয়াইসের হেলমেটে আঘাত করে ১৪০.৯ কিমি বেগের বাউন্সার। কনকাশন টেস্ট হলেও তিনি বিপদমুক্ত। ইনিংসের শুরুতেই পাকিস্তানকে ঝাঁকুনি দেওয়া গেল।

২২তম ওভারের শেষ বলে মেহেদী হাসান মিরাজ ইমাম–উল–হককে এলবিডব্লু করে ফেরান। ১০৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে যায়। বাংলাদেশ শিবিরে সাময়িক স্বস্তি আসে।

তবে দ্বিতীয় দিন শেষে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের স্বস্তি কতটা? শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তান দিন শেষ করে ১ উইকেটে ১৭৯ রানে, বাংলাদেশ এগিয়ে ২৩৪ রানে। দিনের প্রথম ভাগে অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানের লক্ষ্য পূরণ হয়। কিন্তু তারপর প্রায় দুই সেশন ব্যাট করে পাকিস্তান শুধু ইমাম–উল–হকের উইকেট হারিয়ে আজানের নেতৃত্বে দিন শেষ করে। অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা আজান দিনের শেষে অপরাজিত ৮৫ রানে।

নাহিদের বাউন্সারে শুরুতে কেঁপেও আজান ইমামের যাওয়ার পর আবদুল্লাহ ফজলের (৩৭*) সঙ্গে ৭৩ রানের জুটি গড়েন। ইনিংসের ৪৩তম ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে সাদমান ইসলাম যদি স্লিপে ফজলের কঠিন ক্যাচ ধরতেন, দিনের শেষটা বাংলাদেশের জন্য অন্যরকম হতে পারত।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে অতৃপ্তি বলতে মুশফিকুর রহিমের জন্মদিনে সেঞ্চুরি না হওয়া। নইলে প্রথম ইনিংসে চার শ রানের লক্ষ্য পূর্ণ হয়েছে। লোয়ার অর্ডার থেকে তাসকিন আহমেদের ১৯ বলে ২৮ রান অপূর্ণতা রাখেনি।

তবে ব্যাটিং আরও ভালো হতে পারত যদি মুশফিকুরের ২৯তম ফিফটি সেঞ্চুরি হয় এবং লিটন দাস ইনিংস বড় করতেন। শাহিন আফ্রিদির এক ওভারে টানা তিন বাউন্ডারি মারে লিটন, ভাগ্যও সঙ্গী। ৯৫তম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসের পঞ্চম বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিলেও টিভি আম্পায়ার ‘নটআউট’ বলেন। আজানের এক হাতের দারুণ ক্যাচ সত্ত্বেও বল মাটি ছুঁয়েছিল।

কিন্তু পড়ে পাওয়া জীবনের দাম দেন না লিটন। ৯৭তম ওভারে আব্বাসের অফ স্টাম্পের বাইরের বাউন্সারে টেনে মিড অনের সহজ ক্যাচে আউট। তার আগে ৬৭ বলে ৩৩ রানে মুশফিকের সঙ্গে ৬২ রানের জুটি গড়েছেন পঞ্চম উইকেটে।

সকালে উইকেটে ব্যাটিং সহজ ছিল না, অসম বাউন্সে অস্বস্তি। ৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে দিন শুরু করে ২৪ ওভারের প্রথম সেশনে ৭৯ রানে ৩ উইকেট হারায়। লিটনের পর মেহেদী হাসান মিরাজ (১২ বলে ১০ রান) ও তাইজুল ইসলাম আউট। ১০১তম ওভারে আব্বাসকে ছক্কা মেরে পরের বলে গালিতে ক্যাচ দেন মিরাজ।

পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ আব্বাসের টেস্টে ষষ্ঠ পঞ্চম উইকেট শিকার আলাদা। ৩ উইকেট নিয়ে শাহিন আফ্রিদি দ্বিতীয়। লাঞ্চের পর প্রথম ওভারে ইনসুইংয়ে আফ্রিদি বোল্ড করেন টানা তিন টেস্টে ফিফটি করা মুশফিককে। তার আগে দিনের চতুর্থ ওভারে এক রান নিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন মুশফিক। ৭১ রানে ১৭৯ বল, ৮ বাউন্ডারি।

দলের ৩৮০ রানে অষ্টম উইকেট হিসেবে মুশফিকুরের আউট হওয়ার পর তাসকিনের ঝড়ে ৪১৩ হয়। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ইবাদত হোসেন ও নাহিদকে নিয়ে ৩৩ রান যোগ করেন, নাহিদের সঙ্গে শেষ উইকেটে ২৯ রানের জুটি। ১৯ বলে ২৮ রানে তিন বাউন্ডারি ও আব্বাসকে ছক্কায় বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ‘ফিনিশিং টাচ’ দেন তাসকিন।