বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৮৫ ওভারে ৩০১/৪। (প্রথম দিন শেষে)

শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সবুজ উইকেটে বাংলাদেশ ব্যাটাররা দারুণভাবে রান জমিয়েছেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে নাজমুল হোসেন ১০১ রান করে সেঞ্চুরি স্কোর করলেও দ্রুত আউট হয়ে যান। মুমিনুল হক ৯১ রানে নিজের ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৯ রান দূরে থেকে অপরাজিত থাকেন। তাঁদের দুজনের অবদানেই দল ৪ উইকেটে ৩০১ রান করে দিন শেষ করে।

নাজমুলের টেস্ট ক্যারিয়ারে ফিফটি করা মানেই প্রায় সেঞ্চুরি। এখন পর্যন্ত ১৪ বার ফিফটিতে ৯ বার সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। গত বছর জুনে শ্রীলঙ্কায় গল টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির পর চলতি মিরপুর টেস্ট পর্যন্ত খেলা পাঁচ টেস্টের চারটিতেই তিন অঙ্কের স্কোর করেছেন। তবে আজকেরটিসহ সর্বশেষ দুই সেঞ্চুরিতে সেঞ্চুরি করার সঙ্গে সঙ্গেই ফিরতে হয়েছে ড্রেসিংরুমে। আগের সেঞ্চুরিটি ছিল গত নভেম্বরে সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, যেদিন ঠিক ১০০ রানে আউট হয়েছিলেন।

দিনের শুরুতেই শাহীন আফ্রিদির প্রথম বলে মাহমুদুল হাসান দারুণ ফ্লিক শটে বাউন্ডারি করে দিনের ঘোষণা দেন। পরের বলে লেগ বাই থেকে আরেক চার। তবে স্লিপে ক্যাচ ছাড়া পেয়েও ওপেনার সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল দলের ৩১ রানে ফিরে যান।

এরপর নাজমুল ও মুমিনুল জুটি বেঁধে ইনিংস টানতে থাকেন। ১১তম ওভার থেকে লাঞ্চ পর্যন্ত উইকেট পড়েনি। ১০১ রানে লাঞ্চ নিয়ে চা-বিরতির আগে শেষ ওভারে নাজমুল আউট হন। তৃতীয় উইকেটে তাঁদের ১৭০ রানের জুটি পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। এই জুটিতে দিনটি বাংলাদেশের হয়ে যায় এবং এক রেকর্ডও হয়।

টেস্টে নাজমুলের ৪০ ম্যাচে ২৩৯৯ রান, গড় ৫৪.৩০, স্ট্রাইক রেট ৬৪.৮১। আজকের সেঞ্চুরির স্ট্রাইক রেট ৭৭.৬৯। ৭১ বলে ফিফটি, ১৩০ বলে ১০১ রান—দুই ছক্কা ও ১২ বাউন্ডারি। প্রথম ছক্কা সালমান আগাকে ডিপ স্কয়ার লেগে, পরেরটি মোহাম্মদ আব্বাসকে লং অন দিয়ে। শাহীন আফ্রিদিকে পরপর দুই বলে বাউন্ডারি মেরেছেন। সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আব্বাসকে কাভার ড্রাইভে বাউন্ডারি দিয়ে। উদযাপনে ব্যাট দেখিয়ে ড্রেসিংরুমের দিকে তাকান, মাঠে কপাল ছুঁয়ে প্রভুর কাছে কৃতজ্ঞতা জানান। কিন্তু পরের বলেই নোমান আলীর এলবিডব্লুতে আউট।

সকালে আফ্রিদি সুইং পেলেও পরে পাকিস্তানি বোলাররা নির্বিষ। মুমিনুল ৯১ রানে ১০ চার, ২০০ বল খেলে সেঞ্চুরি থেকে ৯ রান দূরে থাকেন। নোমান আলীর নিচু বলে এলবিডব্লু। মুমিনুলের সঙ্গে মুশফিকুর রহিম চতুর্থ উইকেটে ৭৫ রান যোগ করেন। ১০১তম টেস্টে মুশফিক ফিফটি থেকে ২ রান দূরে অপরাজিত ৪৮ রানে, লিটন দাস ৮ রানে অপরাজিত। অধিনায়ক নাজমুল সিরিজের প্রথম ইনিংসে ভালো স্টার্ট দিয়েছেন।