জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে যুক্ত দুই অস্ট্রেলিয়ান নারীর বিরুদ্ধে দাসপ্রথা-সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। সিরিয়া থেকে দেশে ফিরে আসার পর তাঁদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে সাত বছরেরও বেশি সময় আটকে ছিলেন। আজ শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

৫৩ ও ৩১ বছর বয়সী এই দুই নারীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো সিরিয়ায় এক নারীকে তাঁদের বাড়িতে দাস হিসেবে আটকে রাখা এবং ব্যবহার করা। এসব অপরাধে দোষী প্রমাণিত হলে তাঁদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ ২৫ বছর কারাদণ্ডের শাস্তি হতে পারে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার পর মেলবোর্ন বিমানবন্দর থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগের সহকারী কমিশনার স্টিফেন নাট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে।’

পুলিশের বক্তব্য অনুসারে, দুজনেই ২০১৪ সালে পরিবারসহ সিরিয়ায় যান। সেখানে তারা এক নারীকে দাস হিসেবে নিজেদের বাড়িতে আটকে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ওই নারী বা তাঁদের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি।

আলাদা এক ঘটনায়, গতকাল বৃহস্পতিবার ৩২ বছর বয়সী এক অস্ট্রেলিয়ান নারীকে সিডনি বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ আছে, যার মধ্যে আইএসে যোগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। আজ শুক্রবার তাঁকে সিডনির এক আদালতে হাজির করা হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ২০১৫ সালে স্বামীর সঙ্গে সিরিয়ায় যান। তাঁর স্বামী আগেই অস্ট্রেলিয়া ছেড়ে সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দিয়েছিলেন।

অস্ট্রেলিয়া সরকার সম্প্রতি জানিয়েছে, সিরিয়ার শরণার্থী শিবির থেকে চার নারী ও ৯ শিশু সরকারি সহায়তা ছাড়াই দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছে। চতুর্থ নারীটির অবস্থান বা ৯ শিশুদের কোথায় আছেন, তা নিয়ে কর্মকর্তারা বিস্তারিত বলতে অস্বীকার করেছেন।

সিরিয়া থেকে নারী ও শিশুদের ফেরত নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মধ্য-বামপন্থী সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। সমালোচকরা বলছেন, সরকার তাঁদের ফিরে আসা আটকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নাগরিকদের দেশে ফেরা আটকানোর ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের ক্ষমতায় গুরুতর সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

আইএসের সিরিয়ায় ভূখণ্ড হারানোর পর সন্দেহভাজন জঙ্গিদের অনেক স্বজনকে সেখানকার বিভিন্ন শিবিরে আটক করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস ভেঙে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় আটক আইএস সদস্যদের সেখান থেকে সরাতে শুরু করে। এই বাহিনী বিদেশি সহ আইএস-সংশ্লিষ্ট যোদ্ধা ও বেসামরিক ব্যক্তিদের আটক রাখার জন্য প্রায় এক ডজন স্থাপনার নিরাপত্তা দিচ্ছিল।

অস্ট্রেলিয়া সরকার ২০২২ সালে সিরিয়ার শিবির থেকে চার নারী ও ১৩ শিশুকে দেশে ফিরিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখনো প্রায় ২১ জন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক আল-রোজ শিবিরে আছেন।