প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট থেকে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের এককালীন অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। মে-জুন প্রান্তের এই আবেদন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। যোগ্য শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করে সুবিধা পাবেন, শেষ তারিখ আগামী ৩০ জুন রাত ১২টা।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ষষ্ঠ থেকে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের এই সহায়তা প্রদান করা হবে। ‘দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান নির্দেশিকা, ২০২০’ অনুসারে অনুদান দেওয়া হবে। চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের https://www.eservice.pmeat.gov.bd/medical লিংকে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা মেয়াদে একবার মাত্র এই অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে দুর্ঘটনা ও হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের সময় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অর্থবছর বা ব্যবধান এক বছরের মধ্যে হতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ষষ্ঠ থেকে স্নাতক ও সমমান শ্রেণিতে পড়াশোনা করা দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের অনলাইন আবেদনে নির্দেশিকার শর্ত মানতে হবে। শর্তগুলো নিম্নরূপ—

১. মেধাবী হিসেবে শিক্ষার্থীর আগের শ্রেণিতে শতকরা ন্যূনতম ৬০ ভাগ নম্বরপ্রাপ্ত অথবা এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পর্যায়ে জিপিএ–৫–এর ক্ষেত্রে ৩.৫০ এবং স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে জিপিএ–৪.০০–এর ক্ষেত্রে ৩.০০ প্রাপ্তির কপি আপলোড করতে হবে।

২. প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক কর্মে নিয়োগিত সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত দপ্তর ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ‘জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫’ অনুযায়ী ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীর সন্তানেরা আবেদনপত্রের সঙ্গে অফিসপ্রধান থেকে মা–বাবা বা অভিভাবকের বেতনের গ্রেডসংক্রান্ত প্রত্যয়নের কপি এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান থেকে দেয় শিক্ষার্থীর ‘বাবা-মা বা অভিভাবক দরিদ্র’ মর্মে প্রত্যয়নের কপি আপলোড করতে হবে;

৩. অন্যান্য ক্ষেত্রে মা–বাবা বা অভিভাবকের বার্ষিক আয় দুই লাখ টাকার কম হতে হবে এবং দুর্ঘটনার প্রমাণে জেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন বা সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক বা উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কর্তৃক ‘গুরুতর আহত’-র সমর্থনে প্রত্যয়ন করা শিক্ষার্থীর চিকিৎসা সনদের কপি আপলোড করতে হবে;

৪. কার্যক্রমটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় আবেদনের হার্ডকপি ট্রাস্টে পাঠানোর প্রয়োজন নেই।

৫. ট্রাস্ট থেকে নির্ধারিত ফরমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিভাগীয় প্রধান থেকে প্রত্যয়ন, শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন কপি, মা–বাবার এনআইডির কপি, শিক্ষার্থীর ছবি ১ কপি, স্বাক্ষর, অনলাইন ব্যাংক হিসাবের তথ্যসহ অন্য তথ্যগুলো শিক্ষার্থীর অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে স্পষ্ট কপি আপলোড করতে হবে। অন্যথায় আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের আবেদনে শিক্ষার্থী বা মা–বাবার নিজ অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পূর্ণাঙ্গ নম্বর ও ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর উল্লেখ করতে হবে এবং ব্যাংক হিসাবের প্রমাণক হিসেবে চেকের ভেতরের পাতা বা ব্যাংক স্টেটমেন্টের তথ্য আবশ্যিকভাবে অনলাইনে আপলোড করতে হবে। শিক্ষার্থী বা মা–বাবার ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যতীত অন্য কারও ব্যাংক হিসাব নম্বর বিবেচনায় নেওয়া হবে না, তবে মা-বাবা বা মা-বাবার মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে শিক্ষার্থী সম্পূর্ণরূপে যাঁর ওপর নির্ভরশীল, (অভিভাবক হিসেবে) তাঁর ব্যাংক হিসাব নম্বর এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পূর্ণাঙ্গ তথ্য বা সচল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিতে হবে, তবে শিক্ষার্থীর দেওয়া অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের কারণে চিকিৎসা অনুদানের টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যাংক থেকে বাউন্সড হলে পুনরায় এ টাকা পাঠানো সম্ভব হবে না।

আবেদন কীভাবে

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের আগামী ৩০ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে ‘ই-চিকিৎসা অনুদান ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’-এর নির্ধারিত লিংকে প্রবেশ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।