পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ গত বুধবার রাতে বন্দুকের গুলিতে নিহত হয়েছেন। গত ১৩ বছরে শুভেন্দুর চারজন সহকারীর এভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে। এসব ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিজেপির কিছু নেতা চন্দ্রনাথের হত্যায় স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

প্রথম সহকারীর রহস্যজনক মৃত্যু

২০১৩ সালে শুভেন্দু অধিকারী তখনো তৃণমূলে যোগ দেননি। তাঁর তৎকালীন ব্যক্তিগত সহকারী প্রদীপ ঝা পূর্ব মেদিনীপুরে রহস্যজনকভাবে মারা যান।

এ ঘটনায় তখন কোনো বড় রাজনৈতিক বিতর্ক হয়নি। তদন্তেও কোনো ফৌজদারি অপরাধের উল্লেখ ছিল না।

নিরাপত্তা কর্মকর্তার মৃত্যু

২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের সশস্ত্র পুলিশের কনস্টেবল সুব্রত চক্রবর্তী রহস্যজনকভাবে মারা যান। তাঁকে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে একটি পুলিশ ব্যারাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি তখন শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা (পিএসও) হিসেবে কাজ করতেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ এটাকে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সুব্রত চক্রবর্তী সরকারি পিস্তল দিয়ে নিজেকে গুলি করেছেন।

সুব্রতের স্ত্রী ২০২১ সালে নতুন তদন্তের দাবি জানান এবং স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রশ্ন তুলেন। এরপর ঘটনাটি আবার আলোচনায় আসে।

এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের সিআইডি তদন্ত পুনরায় শুরু করে এবং আগের তদন্তের সঙ্গে জড়িত একাধিক পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

এ ঘটনা নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দুই দলই একে অপরকে রাজনৈতিকভাবে ঘটনা ব্যবহারের অভিযোগ করে।

আরেক সহকারীর অস্বাভাবিক মৃত্যু

শুভেন্দুর আরেক ব্যক্তিগত সহকারী পুলক লাহিড়ী ২০২১ সালে অস্বাভাবিকভাবে মারা যান। এ ঘটনায় কোনো ফৌজদারি অপরাধের চূড়ান্ত প্রমাণ এখনো প্রকাশ পায়নি।

চন্দ্রনাথের হত্যাকাণ্ড

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, নিহত চন্দ্রনাথের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের শুভেন্দু অধিকারীর বাড়ির কাছে। তিনি শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী হয়ে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মী অবসরের পর রাজনীতিতে আসেন শুভেন্দুর হাত ধরে। গতকাল রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় গাড়িতে ফিরছিলেন তিনি। তখন বন্দুকধারীরা হামলা চালায়।

পুলিশ সূত্র জানায়, দুষ্কৃতকারীরা কিছুদিন ধরে চন্দ্রনাথের উপর নজরদারি করছিল। গতকাল রাতে তিনি দোহারিয়ার বাড়িতে ফিরছিলেন। দুষ্কৃতকারীরা একটি গাড়ি ও দুটি মোটরসাইকেলে তাঁকে অনুসরণ করে। চন্দ্রনাথের গাড়ি কলকাতা বিমানবন্দরের ১ নম্বর গেট হয়ে যশোর রোডের ডানদিকে দোহারিয়ায় ঢুকলে দুষ্কৃতকারীরা মোড়ের রাস্তায় গাড়িটা আটকে দেয়।

পেছনের মোটরসাইকেল থেকে দুষ্কৃতকারীরা গাড়ির সামনের আসনে বসা চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে পরপর চারটি গুলি ছোড়ে। সামনের কাচ ভেদ করে গুলি তাঁর শরীরে লাগে। পাশের চালকও আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। দুষ্কৃতকারীরা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।