ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ গতকাল বুধবার রাতে খুন হয়েছেন। তাঁর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বাড়ির কাছে। চন্দ্রনাথ শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক এবং ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করতেন।
ভবানীপুর আসনের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মী চন্দ্রনাথ অবসরের পর শুভেন্দুর হাত ধরে রাজনীতিতে যোগ দেন। গতকাল রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় গাড়িতে যাওয়ার সময় তাঁকে পথে খুন করা হয়।
পুলিশ সূত্র বলছে, দুষ্কৃতকারীরা চন্দ্রনাথকে বেশ কিছুদিন ধরে নজর রাখছিল। গতকাল তারা একটি গাড়ি নিয়ে তাঁর চলাচলের উপর কড়া নজরে ছিল। রাতে দোহারিয়ার বাড়িতে ফেরার সময় দুষ্কৃতকারীরা একটি গাড়ি ও দুটি মোটরসাইকেলে তাঁকে অনুসরণ করে। চন্দ্রনাথের গাড়ি কলকাতা বিমানবন্দরের ১ নম্বর গেট হয়ে দোহারিয়ার দিকে যাচ্ছিল। যশোর রোডের ডানদিকে মোড় ঘুরলে দুষ্কৃতকারীরা রাস্তায় গাড়ি আটকে দেয়।
সূত্র জানায়, পেছনের মোটরসাইকেল থেকে দুষ্কৃতকারীরা চন্দ্রনাথের গাড়ির কাছে এসে সামনের আসনে বসা তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর চারটি গুলি ছোড়ে। সামনের কাচ ভেদ করে গুলি চন্দ্রনাথের শরীরে লাগে। পাশের চালকও আহত হন এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুষ্কৃতকারীরা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় লোকজনের সাহায্যে চন্দ্রনাথকে নিকটবর্তী বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। রাতেই মরদেহ বারাসাতের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে ময়নাতদন্ত হবে।
ঘটনা জানার পর শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যসহ বিজেপি নেতারা হাসপাতালে ছুটে যান। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহাপরিচালক সিদ্ধিনাথ গুপ্তাসহ শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত হন। শুভেন্দু বলেছেন, “এই হত্যাকাণ্ডের কোনো রথী–মহারথী ছাড় পাবেন না। তাঁদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হবে।”
দুষ্কৃতকারীদের ব্যবহৃত প্রাইভেট কার পুলিশ জব্দ করেছে। গাড়ির নম্বরপ্লেট শিলিগুড়ির হলেও তা ভুয়া। পুলিশ মোটরসাইকেল দুটি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এদিকে বিজেপির কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, ঘটনার সঙ্গে এলাকার কিছু তৃণমূল নেতা জড়িত।






