পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে রাজ্যজুড়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের টানা শাসনের অবসান এবং বিজেপির প্রথমবারের মতো রাজ্য শাসনে উত্থান এই পরিবর্তনকে পুরো ভারতের আলোচনায় নিয়ে এসেছে। ফলাফল প্রকাশের পর থেকে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা চলছে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সিদ্ধনাথ গুপ্ত গতকাল বুধবার জানান, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় সর্বশেষ ৪৮ ঘণ্টায় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় চারশতাধিক মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে। এছাড়া আগাম সুরক্ষামূলক ব্যবস্থায় প্রায় ১ হাজার ১০০ জনকে আটক করা হয়েছে।
সিদ্ধনাথ গুপ্ত বলেন, ৪ মে ভোটের ফলাফল ঘোষণা হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রতিপক্ষকে হুমকি, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। তিনি আরও জানান, ‘পুলিশের কাছে ২০০টির বেশি প্রাথমিক অভিযোগ (এফআইআর) জমা পড়েছে। এখন পর্যন্ত ৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা আগাম সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছি।’
ফলাফলের পর সহিংসতায় দুজন নিহত হয়েছেন বলেও সিদ্ধনাথ গুপ্ত জানান। এর একটি নান্নুর এলাকায়, অন্যটি নিউ টাউনে। তিনি বলেন, ‘দুটি ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আমরা এ দুটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।’
কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দ সতর্কবাণী জারি করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা যে–ই করুক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুষ্কৃতকারীদের ধরতে বিশেষ অভিযান চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, কলকাতা পুলিশের আওতাধীন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৮০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬৫ জন সুনির্দিষ্ট মামলায়, বাকি ১৫ জন আগাম সুরক্ষামূলক ব্যবস্থায়।
এদিকে, গতকাল রাতে উত্তর চব্বিশ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী দল বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাঁর গাড়িতে থাকা আরেক যুবক গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি। এ ঘটনায় মধ্যমগ্রাম ও সংলগ্ন এলাকায় প্রবল উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।






