ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক আইসিসি নাকি বিসিসিআই? দক্ষিণ আফ্রিকার অফ স্পিনার সাইমন হারমান্ড এই সাধারণ ধারণা নিয়ে একমত নন। তাঁর মতে, ভারতের বিশাল বাণিজ্যিক শক্তি ও প্রশাসনিক প্রভাব ক্রিকেটের গতিপথ নির্ধারণ করেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন ৩৭ বছর বয়সী হারমান্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ১৪টি টেস্ট খেলা এই স্পিনার বিশ্ব ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা নিয়ে খোলাখুলি মন্তব্য করেছেন। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতলেও ক্ষমতার ভারসাম্য বদলায়নি, সেটি তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন।

সাক্ষাৎকারে ভারতের প্রসঙ্গে হারমান্ড বলেন, “বাণিজ্যিক শক্তির কারণেই সব ক্ষমতা এখন তাদের হাতে। বিসিসিআই–ই আইসিসি নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু আমাদের কীই–বা করার আছে? খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের শুধু নিজেদের কাজটুকুই করতে পারি। কেবল শিরোপা জিতলেই আলোচনার মোড় ঘোরানো সম্ভব।”

এই কারণেই কোচ শুকরি কনরাডের অধীনে অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান দল নিয়ে হারমান্ডের মুগ্ধতা বেশি। বাভুমার অধিনায়কত্বে গত বছর টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

জাতীয় দলের হয়ে গত বছরের নভেম্বরে ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলা হারমান্ড এই দল নিয়ে বলেন, “দলে দু-একজন মহাতারকা থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকা দলটা আসলে তার চেয়েও বেশি কিছু। অর্থাৎ একক শক্তির চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দলগতভাবেই বেশি শক্তিশালী।”

কোচ কনরাড সম্পর্কে তিনি বলেন, “তিনি যদি মনে করে আপনি বাজে খেলছেন, তবে মুখের ওপর সরাসরি তা বলে দেন। আমি এই সোজাসাপটা বিষয়টি পছন্দ করি। আগে সব সময় এমনটা পেতাম না।”

ইংল্যান্ডে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে গত ১০ মৌসুমে হারমান্ডের চেয়ে কেউ বেশি উইকেট নেয়নি। এসেক্সের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন। প্রথম মৌসুমেই ১৯.১৯ গড়ে ৭২ উইকেট নিয়ে ক্লাবটিকে ২৫ বছর পর শিরোপা জিততে সাহায্য করেন।

ইংলিশ কন্ডিশনে স্পিনারদের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, “ইংল্যান্ডে সাধারণত স্পিনারদের নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা হয় সবার শেষে। এখানে প্রতিভার অভাব নেই—১৮টি কাউন্টি দল আছে। কিন্তু কয়টি দলে স্পিন বোলিং কোচ আছে? বড়জোর দুই বা তিনটি হবে।”