১৫ মার্চ, ২০২৬। এই দিনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন সরফরাজ আহমেদ। ১৮ এপ্রিল, ২০২৬–এ তাঁকে বাংলাদেশ সিরিজের জন্য টেস্ট দলের কোচের দায়িত্ব দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

খেলা থেকে অবসরের এক মাস তিন দিন পরই টেস্ট দলের কোচ—কেউ কেউ অবাক হতে পারেন। তাঁদের জন্য জানিয়ে রাখা, অবসরের আগে থেকেই পাকিস্তান দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সরফরাজ। এমনকি কাজ করেছেন পাকিস্তান দলের নির্বাচক হিসেবেও।

৩৮ বছর বয়সী এই সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানকে প্রধান কোচ বানানোয় খোদ পাকিস্তানের অনেক সাবেক ক্রিকেটারই সমালোচনা করেছেন। সেসব এক পাশে রেখেই সরফরাজ এখন টেস্ট দলের কোচের দায়িত্ব নিয়ে ভিনদেশে। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে পাকিস্তান দলের কয়েকজন খেলোয়াড় রোববার সকালে ঢাকায় পা রেখেছেন। এই দলের সঙ্গে এসেছেন সরফরাজও।

.

কয়েক বছর ধরে পিসিবি কোচ হিসেবে কারও ওপরই খুব একটা ভরসা করতে পারছে না। সরফরাজকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে পাকিস্তানের টেস্ট দলের প্রধান কোচের পদটি কয়েক মাস শূন্যই ছিল। সাবেক ক্রিকেটার আজহার মেহমুদ গত বছর অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজে ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে।

পরে তাঁর সঙ্গে কাজের মেয়াদ বাড়ায়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এর আগে পাকিস্তানের টেস্ট দলের দায়িত্ব সামলেছিলেন আরেক সাবেক ক্রিকেটার আকিব জাভেদ।

.

তিনি আবার দায়িত্ব নিয়েছিলেন জেসন গিলেস্পি টেস্ট দলের দায়িত্ব ছাড়ার পর। এত সব অদল–বদলই ঘটেছে ২০২৪ সাল থেকে। আর এঁদের সবাই খেলা ছেড়েছেন বেশ আগে, কোচিংয়েও অভিজ্ঞতা অনেক।

প্রশ্ন হচ্ছে, পাকিস্তানের টেস্ট দলের কোচদের এই আসা–যাওয়ার মধ্যে হঠাৎ সরফরাজের মতো অপেক্ষাকৃত ‘নবীন’ একজন এলেন কীভাবে?

.

সরফরাজ পাকিস্তানের হয়ে সর্বশেষ খেলেছেন ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। এমনকি গত অক্টোবরেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলেছেন। তবে এর পরপরই পিসিবির কোচিং–প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে যান তিনি।

.

গত নভেম্বরে তাঁকে পাকিস্তান শাহিনস (‘এ’ দল) ও অনূর্ধ্ব–১৯ দলকে তদারকির দায়িত্ব দেয় পিসিবি। তাঁর কাজের আওতায় ছিল দলের কার্যক্রম পরিচালনা, খেলোয়াড়দের উন্নয়নের পথ তৈরি, কোচিং স্টাফদের সঙ্গে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিভা অন্বেষণ ও পরিচর্যা।

পিসিবি তখন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লিখেছিল, পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় কাঠামোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং যুব দল, ‘এ’ দল ও জাতীয় সিনিয়র দলের মধ্যে ধারাবাহিকতা আরও জোরদার করার একটি ব্যাপক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

.

একই বছরের ডিসেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হওয়া অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপে পরামর্শক করে পাঠানো হয় সরফরাজকে। পাকিস্তানের দলটি ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলে সরফরাজের কোচিং–দক্ষতা নিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে পিসিবি। যার পরিপ্রেক্ষিতে এবার বাংলাদেশ সফরে টেস্ট দলের কোচের দায়িত্বই তাঁর কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছে।

.

এমনিতে অধিনায়ক হিসেবে পাকিস্তান ক্রিকেটে সরফরাজেরও ভালো অবস্থান ছিল আগে থেকেই। তাঁর অধিনায়কত্বে ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান। সেটি ছিল ১৯৯২ বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানের প্রথম ৫০ ওভারের আইসিসি ট্রফি। যদিও সরফরাজের নেতৃত্বাধীন দলটি সেবার আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের সর্বনিম্ন দল ছিল।  

পাকিস্তানের হয়ে সরফরাজ ৫৪টি টেস্ট খেলেছেন। ৩৭.৪১ গড়ে ৩ হাজার ৩১ রান করেছেন ২১টি ফিফটি ও চারটি সেঞ্চুরিতে। ১১৭ ওয়ানডেতে ৩৩.৫৫ গড়ে করেছেন ২ হাজার ৩১৫ রান। ১১টি ফিফটি ও দুটি সেঞ্চুরি আছে এ সংস্করণে। আর আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে ৬১ ম্যাচে ১২৫.২৬ স্ট্রাইক রেটে আছে ৮১৮ রান।

.কেন নাহিদ রানাকে এত প্রয়োজন ছিল পেশোয়ার জালমির.

ভালো উইকেটকিপার–ব্যাটসম্যান, শিরোপা জেতানো অধিনায়ক এবং কোচিংয়ে সাফল্যের পরও সরফরাজকে এখনই টেস্ট দলের কোচ বানিয়ে দেওয়া কারও কারও পছন্দ হয়নি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টিভি অনুষ্ঠানে আলোচনার জবাবে সরফরাজ করাচিতে কয়েক দিন আগে বলেছেন, ‘সাবেক ক্রিকেটার ও আমার আগের সহকর্মীদের নিজস্ব মতামত আছে। তবে সুযোগটা কাজে লাগানোর বিষয়ে আমি ইতিবাচক।’

পাকিস্তানের এই দুটি টেস্টে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। প্রথম টেস্ট শুরু হবে ৮ মে ঢাকায়, দ্বিতীয় টেস্ট ১৬ মে সিলেটে।

.ধোনিকে নিয়ে পুরোনো প্রশ্ন নতুন রূপে