সকালে শ্রমিক নিয়ে জমিতে ধান কাটতে যান কৃষক আহাদ মিয়া (৫৫)‌। তাঁর আবাদ করা ছয় বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। স্বপ্নের ধান তলিয়ে যেতে দেখে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে ঢলে পড়েন এই কৃষক। জমিতেই মারা যান। আজ শনিবার সকাল আটটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আহাদ মিয়া গোয়ালনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আহাদ মিয়া স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তবে মৃত্যুর বর্ণনা শোনে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. সাইফুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ওই ব্যক্তি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন।

মৃত ব্যক্তির বড় ভাই স্থানীয় ইউপি সদস্য আহম্মদ হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি মুক্তকণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন। মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘সকালের শ্রমিক নিয়ে জমিতে ধান কাটতে গিয়েছিল আমার ভাই। সব ধান পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে স্ট্রোক করে ঘটনাস্থলেই মারা যায় আমার ভাই। তার দুই ছেলে ও এক মেয়েসন্তান রয়েছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নাসিরনগরের হাওরের ফসলে জমির তলিয়ে গেছে। গোয়ালনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড রামপুর গ্রামের কৃষক আহাদ মিয়া ৬ বিঘা জমিতে ব্রি–২৯ ধান আবাদ করেন। আজ শনিবার সকাল আটটার দিকে কয়েকজন শ্রমিককে সঙ্গে নিয়ে জমিতে ধান কাটতে যান আহাদ। গিয়ে দেখেন, খেতের সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এই দৃশ্য দেখে তিনি ঘটনাস্থলেই ঢলে পড়েন, সেখানেই মারা যান। পরে শ্রমিকসহ স্থানীয় লোকজন তাঁর লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। দুপুরে জোহরের নামাজের পর রামপুর গ্রামের আহাদের লাশ দাফন করা হয়।

গোয়ালনগর ইউনিয়নের কৃষক দুধ মিয়া মুক্তকণ্ঠকে জানান, আহাদ মিয়া জমির সব ধান তলিয়ে যেতে দেখে স্ট্রোক করে জমিতেই মারা যান। একই কারণে গোয়ালনগর এলাকার অন্তত তিনজন কৃষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে গোয়ালনগর ইউনিয়নের চার থেকে পাঁচ হাজার বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকদের বিশাল ক্ষতি হয়ে গেছে। খলায় রাখা ধানও বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

নিহতের ভাতিজা ফারুক মিয়া বলেন, ৫০ হাজার টাকা ঋণ করে তাঁর চাচা ছয় বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। সব জমির ধান পানিতে চলে যাওয়ার দৃশ্য তিনি সহ্য করতে পারেননি। সকালে আটটার দিকে শ্রমিক নিয়ে জমিতে ধান কাটতে গিয়ে তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রোক করে জমির আলেই মারা গেছেন।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান শাকিল জানান, জমিতে ধান কাটতে গিয়ে একজন কৃষকের মৃত্যুর বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ওই কৃষকের বাড়িতে খোঁজ নিতে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘উপজেলায় অনেক কৃষকের জমির ধান গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানিতে তলিয়ে গেছে। একজন কৃষক ধান কাটতে গিয়ে জমিতে মারা গেছেন বলে জানতে পেরেছি। আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও খবর পেয়েছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ঘটনা সত্য হলে তাঁদের নাম ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে তাঁদেরকে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।’