‘হামার কাপড়চোপড় নাই। ঠান্ডাতে বাঁচি না হামরা। যে শীত বাহে, কম্বলকোনা গাত দিয়া শুতমো।’
মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের উদ্যোগে কম্বল পেয়ে এভাবেই অনুভূতি প্রকাশ করেন রমিচা বেগম (৮০)। তিনি তিস্তা নদীবেষ্টিত লালমনিরহাটের দুর্গম চর হরিণ চওড়া মাঝের চরের বাসিন্দা।
চরটির ভৌগোলিক অবস্থান লালমনিরহাটের খুনিয়াগাছ ইউনিয়নে। এই চরের ২৫০ জন শীতার্ত অসহায় মানুষকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কম্বল দেওয়া হয়। আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসির সৌজন্যে এই শীতবস্ত্র বিতরণে সহযোগিতা করেন মুক্তকণ্ঠ রংপুর বন্ধুসভার সদস্যরা।
কম্বল পেয়ে হরিণ চওড়া মাঝের চরের বাসিন্দা রফিুকল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘হামার চরোত খুব জাড় (শীত)। বাতাস খালি হিম হিম করে ঢোকে আর বাইর হয়। কাইও একনা কম্বলও দেয় নাই। মুক্তকণ্ঠ কম্বলকোনা দিলো। এই জাড়োত কম্বল পায়া ভালো হইল। গায় দিয়া থাকপার পামো।’
স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, ২০-২৫ বছর থেকে এই চরে ৪০০ পরিবার বাস করছে। তবে এই চরের চারপাশে তিস্তা নদী। চরের অধিকাংশ বাড়ি পড়েছে লালমনিরহাটে। একাংশ পড়েছে রংপুরের গঙ্গাচড়ার সঙ্গে। বিদ্যালয় না থাকায় এই চরের শিশুরা দীর্ঘদিন থেকে শিক্ষাবঞ্চিত ছিল। গত ২৪ অক্টোবর মুক্তকণ্ঠের ২৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি ভালো কাজের অংশ হিসেবে এই চরে আলোর পাঠশালা চালু করেছেন রংপুর বন্ধুসভার সদস্যরা।
আলোর পাঠশালার শিক্ষক মোরশেদুল ইসলাম বলেন, এই চরে কেউ কখনো ত্রাণ দিতে আসে না। রংপুর বন্ধুসভার সদস্যরা এই অবহেলিত এলাকায় খোঁজ নিয়ে এখানকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াচ্ছেন। শীতার্তদের শীতবস্ত্র দিচ্ছেন, এখানকার শিশুদের পড়াচ্ছেন। চরের মানুষ মুক্তকণ্ঠ ও রংপুর বন্ধুসভার প্রতি কৃতজ্ঞ।
শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও সাংবাদিক ধ্রুব সাদিক, রংপুরে মুক্তকণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক জহির রায়হান, আলোকচিত্রী মঈনুল ইসলাম, মুক্তকণ্ঠ রংপুর বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দা ইফাত, দপ্তর সম্পাদক তাসফিয়াহ্ খন্দকার ও কার্যনির্বাহী সদস্য সাদিয়া আরফিন।
শীতার্তদের সহায়তায় আপনিও এগিয়ে আসুন:
শীতার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে। হিসাবের নাম: মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল, হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০ ১১১৯৪, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা। পাশাপাশি বিকাশে সহায়তার অর্থ পাঠাতে পারেন: ০১৭১৩০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বরে। এ ছাড়া বিকাশ অ্যাপে ডোনেশন অপশনের মাধ্যমেও অনুদান পাঠাতে পারেন।






