ক্যাম্পাসের বাইরে একটি অ্যাপার্টমেন্টে দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী খুন হওয়ার পর ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। নিজেদের বসবাসের ব্যবস্থা নিয়ে তাঁরা নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন।

নিহত দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহত এক শিক্ষার্থীর রুমমেটকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম জামিল আহমেদ লিমন। তিনি এবং সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ ক্যাম্পাসের বাইরে একই অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন।

নিহত অন্য শিক্ষার্থীর নাম নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। লিমনের সঙ্গে বৃষ্টির প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাঁরা বিয়ের পরিকল্পনা করছিলেন বলে দাবি করেছেন লিমনের ভাই।

.

সন্দেহভাজন আবুঘরবেহ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তিনি সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান শিক্ষার্থী আলিসিয়া বলেন, ‘আমি বলব, এটা সত্যিই ভয়ানক! সাধারণত আমরা এসব ঘটনা অন্য জায়গায় ঘটতে দেখি। কিন্তু যখন খুব কাছাকাছি এমন কোনো ঘটনা ঘটে, যেমন নিজের স্কুলে বা এমন কোনো অ্যাপার্টমেন্টে, যেটার একদম পাশেই আপনি থাকেন, তখন সেটা বেশ ভয় ধরিয়ে দেয়।’

আলিসিয়া আরও বলেন, তাঁর মা–বাবা বিদেশে থাকেন। এ ঘটনা শোনার পর তাঁরা তাঁকে খুব সাবধানে থাকতে বলেছেন।

এই তরুণী বলেন, এটা শিক্ষার্থীদের এবং তাঁদের পরিবারের জন্য খুবই দুঃখজনক; বিশেষ করে যেহেতু তাঁরা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী।

.

শিক্ষার্থী নাথান আরনান বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে যেখান থেকে হিশাম সালেহ আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়, সেখান থেকে মাত্র দুই মিনিটের দূরত্বে তাঁর অ্যাপার্টমেন্ট। তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে বসবাসের জন্য আরও নিরাপত্তার শর্ত জারি এবং অতীত ইতিহাস যাচাই করার ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন।

আরনান বলেন, ‘আমি মনে করি, কারও মাথার ওপর অপহরণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা বা এ ধরনের কোনো ঝুঁকি থাকা উচিত নয়।’

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে সদ্য পড়তে আসা এভারেট বলেন, এ ঘটনা এখন পর্যন্ত রুমমেট বেছে নেওয়ার বিষয়ে তাঁর চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করেনি। তবে আগামী সেমিস্টারে ক্যাম্পাসের বাইরে বাসস্থানের খোঁজ করার সময় তিনি বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রাখবেন।

এভারেট বলেন, ‘সাধারণভাবে বলতে গেলে, ইউএসএফ একটি ভালো স্কুল এবং ভালো কমিউনিটি। আমার মনে হয় না, এখানে কোনো সমস্যা থাকার কথা।’

.লিমন–বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার আগে চ্যাটজিপিটির কাছে কী কী জানতে চেয়েছিলেন সন্দেহভাজন খুনি.

ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা নিয়ে ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে গত শুক্রবার থেকে। সেদিন ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিচ থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ আবর্জনা ফেলার কালো রঙের পলিথিনের ব্যাগে মোড়ানো ছিল।

সেখান থেকে আরেকটু দূরের একটি জালাশয় থেকে আরেকটি মরদেহের খণ্ডিতাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি নিহত বৃষ্টির কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ এ ঘটনার তদন্ত করছে। শেরিফের কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, তারা এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভিডিও বা অন্যান্য তথ্য–প্রমাণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

.ফ্লোরিডায় মরদেহের আরেকটি অংশ উদ্ধার, বৃষ্টির কি না, জানা যাবে পরীক্ষার পর.

২৬ বছর বয়সী আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে দুটি প্রথম শ্রেণির হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

লিমন ও বৃষ্টির পরিবার যৌথভাবে দেওয়া এক বিবৃতিতে আবুঘরবেহর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছে এবং ক্যাম্পাসের বাইরে বসবাস করা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।

.শিগগিরই বিয়ের পরিকল্পনা ছিল পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমন–বৃষ্টির, তার আগেই সব শেষ