আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জেরায় জানান, অপহরণ বা গুমের জন্য সেনাবাহিনীর কাছ থেকে কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী।
আজ সোমবার আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান তাঁকে জেরা করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় এ জেরা হয়।
তিনি আগে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট রাতে রাজধানীর বড় মগবাজারের বাসা থেকে তাঁকে অপহরণ করে গুম করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি গুম ছিলেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেন, অপহরণের পর তাঁকে যে কক্ষে বন্দী করে রাখা হয়েছিল, তার বর্ণনা তিনি কোর্ট অব ইনকোয়ারিতে দিয়েছেন। সেই কক্ষে ২০২৩ সালের ৬ জুন তিনি গুরুতর সুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে ২০২৩ সালের ৮ জুন ওই কক্ষে এসি (শীতাতপনিয়নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র) স্থাপন করা হয়। এর আগে প্রায় সাত বছর তিনি এসিবিহীন কক্ষে ছিলেন। তাঁরা বলতেন, ‘আপনাকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’
জেআইসিতে গুম করে রাখার এই মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে ৩ জন গ্রেপ্তার। তাঁরা ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন পরিচালক—মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। তাঁদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
মামলার বাকি ১০ আসামি পলাতক। তাঁদের মধ্যে ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।
পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।
পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও আছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক।






