আইপিএলে এ পর্যন্ত সব দল চারটি করে ম্যাচ খেলেছে। বোলিং পরিসংখ্যান দেখলে আশ্চর্য লাগবে—অন্তত একটি করে উইকেট নেওয়া ৬৬ জন বোলারের নাম আছে সেখানে, কিন্তু যশপ্রীত বুমরা নেই!
ইএসপিএনক্রিকইনফো বা ক্রিকবাজের স্ট্যাটসেও বুমরার নাম নেই উইকেটশিকারিদের তালিকায়। আসলে বুমরা এবারের আইপিএলে চার ম্যাচ খেলেও একটি উইকেট পাননি। গতকাল রাতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের বিপক্ষে ১৮ রানে হারের ম্যাচেও খালি হাত রইলেন তিনি। এ নিয়ে আইপিএলে টানা পাঁচ ম্যাচে উইকেটশূন্য বুমরা।
এবারের আগে সর্বশেষ ২০২৫ আইপিএলে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ৪০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন বুমরা। সেই ম্যাচে ৫ উইকেটে হেরেছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। তারপর এবার মুম্বাইয়ের চার ম্যাচেই উইকেট ছাড়াই ফিরতে হয়েছে এই প্রিমিয়াম পেসারকে।
চার ম্যাচে মোট ১৫ ওভার বলিং করেছেন বুমরা। আইপিএলে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বল (৯০ ডেলিভারি) করে উইকেটশূন্য বোলারের তালিকায় তার নাম প্রথম। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হর্ষল প্যাটেল দ্বিতীয় (৪৬ ডেলিভারি)। ক্রিকভিজ জানিয়েছে, আইপিএলে বুমরা এ পর্যন্ত ১২২ বল করে উইকেটশূন্য। তাঁর আইপিএল ক্যারিয়ারে এটাই উইকেটশূন্য থাকার দীর্ঘতম সময়।
তবে বুমরাকে উইকেটশূন্য থাকা দিয়ে বিচার করলে সেটা ভুল হতে পারে বলে মনে করেন ভারতের সাবেক স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। অশ্বিনের মতে, বুমরার আসল কার্যকারিতা নিখুঁত ইয়র্কার মারায় ও রানের গতি আটকে দেওয়ায়, বিশেষ করে গতকাল রাতের ম্যাচের ভেন্যু ওয়াংখেড়ের মতো মাঠে।
নিজের পোস্টে অশ্বিন বলেন, “বুমরা উইকেট পাচ্ছে না—এ আলোচনা দলের ক্ষতি করতে পারে। উইকেট খোঁজার চেয়ে তার নিখুঁত ইয়র্কার মারা এবং প্রতিপক্ষকে প্রতিটি রানের জন্য চাপে রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ; বিশেষ করে ওয়াংখেড়ের মতো ভেন্যুতে।”
অশ্বিন যোগ করেন, “যখন আপনি টানা ওভার করতে পারেন না, তখন আপনার উইকেট পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে অন্য প্রান্তের বোলারের ওপর। টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে এত বছর পার হয়ে গেলেও বোলিং ইউনিটের মধ্যে জুটি বেঁধে রক্ষণাত্মক বোলিং করার মানসিকতা এখনো সেভাবে গড়ে ওঠেনি।”
অশ্বিনের কথায় যুক্তি আছে, তা প্রমাণ করছে পরিসংখ্যানও। ইকোনমি রেটে বুমরা এবার আইপিএলে মুম্বাইয়ের সেরা বোলার। ৪ ম্যাচে ১৫ ওভার বলিং করে ওভারপ্রতি গড়ে ৮.২০ রান দিয়েছেন। তবে এটা বুমরার সেরা পারফরম্যান্স নয়। টি-টুয়েন্টিতে তাঁর ক্যারিয়ার ইকোনমি ৬.৯৩ এবং আইপিএলে ৭.২৭।






