নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এ বছর টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ক্রিকেটে দীর্ঘদিন চর্চার বিষয় থাকবে। এই সিদ্ধান্ত হয়েছিল আমিনুল ইসলাম বিসিবি সভাপতি থাকাকালীন। তবে বিশ্বকাপ না খেলার দায় নিতে তিনি রাজি নন।
আজ দুপুরে মুক্তকণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আমিনুল বলেছেন, “এখন যদি বাংলাদেশে একটা ভূমিকম্প হয়ে যায়, সেটা কি তারেক রহমানের ব্যর্থতা হবে? টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলা ছিল সরকারের সিদ্ধান্ত, তা–ও নিরাপত্তার কারণে।”
জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও অধিনায়ক আমিনুলের কাছে বিশ্বকাপ না খেলার দুঃখ সবচেয়ে বেশি হওয়ার কথা। গত মঙ্গলবার এনএসসি বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর তিনি আর সভাপতির দায়িত্বে নেই। আমিনুল বলছেন, তিনি বিশ্বকাপ খেলতে রীতিমতো যুদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, “শুধু লড়াই–ই করিনি, রীতিমতো যুদ্ধ করেছি। কিন্তু এটা তো আমি মানুষকে দেখিয়ে করব না। আসিফ নজরুল (তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা) সাহেবদের সঙ্গে যেদিন বৈঠক হয়, ক্রিকেট বোর্ডের ঢাকায় থাকা ১৪–১৫ জন পরিচালক কিন্তু সিদ্ধান্ত দিয়ে এসেছিলেন। আমাদের যুদ্ধ কিন্তু সহজ ছিল—কেন মোস্তাফিজকে আইপিএল খেলতে দেওয়া হবে না, এটা ছিল নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ।”
“মোস্তাফিজকে দলে নেওয়া যাবে না, বাংলাদেশের সমর্থকেরা জার্সি পরে ঘুরতে পারবে না, এগুলোর নিরাপত্তা না দিলে হলো? আমাদের বাগ্বিতণ্ডা যা–ই বলেন, তা ভারতের সঙ্গে ছিল না, আমাদের অনুরোধ ছিল আইসিসির কাছে। সাধারণ একটা অনুরোধ ছিল ভারত থেকে সরিয়ে যেন শ্রীলঙ্কায় ম্যাচগুলো দেয়”—যোগ করেন আমিনুল।
বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর জন্য বিসিবি থেকে গ্রুপ বদলের প্রস্তাবও ছিল। ‘বি’ গ্রুপে থাকা আয়ারল্যান্ডের সব ম্যাচ ছিল কলম্বো ও ক্যান্ডিতে। তাদের বাংলাদেশের থাকা ‘সি’ গ্রুপে সরিয়ে আনলেই সংকট কেটে যেত।
বিসিবির এমন প্রস্তাবে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড রাজিও ছিল বলে দাবি আমিনুলের, “মজার ব্যাপার হলো আইসিসিকে যখন লিখলাম, তখন আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড কিন্তু ই–মেইল দিয়েছিল যে আমরা তোমাদের সমর্থন দিতে তৈরি। গ্রুপ বদলাতে সমস্যা নেই। তারা আমাদের শুধু কথা দেয়নি, লিখিত দিয়েছে।”
কিছু ক্রিকেটার অভিযোগ করেছেন, বিশ্বকাপ না খেলার প্রক্রিয়া তাদের জানানো হয়নি। কিন্তু এই দাবি অস্বীকার করেছেন আমিনুল। তিনি বলেন, “ক্রিকেটারদের জানানো হয়েছে। যারা বলছে, তারা তাদের নিজেকে নিজে প্রশ্ন করুক, তারা সব জানে। ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে কেউ বলেনি যে খেলতে যাবে। শুধু আফসোস করছিল। একটা লোকও বলেনি যেতে চাই।”
এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমরা বোর্ডটা স্বাধীনভাবে চালাতাম। ক্রিকেটারদের সব দায়িত্ব ক্রিকেট অপারেশনসের কাছে ছিল। যত দূর জানি, তারা ক্রিকেটারদের জানানোর কাজটা করেছে। এখন এসব কথা বললে তো হবে না। তারা তো উপদেষ্টার সামনে জোর গলায় বলেনি যেতে চাই, আপনারা ব্যবস্থা করেন। ক্রিকেটার, দেশের সাংবাদিক ও যারা খেলা দেখতে যাবে, সবার নিরাপত্তার কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে আমরা কখনো বলিনি বিশ্বকাপ খেলব না। বলেছি খেলব, তবে ম্যাচগুলো ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় হতে হবে।”
‘আমার কাছে মনে হচ্ছিল দেশটা বদলে গেছে’—সাক্ষাৎকারে বললেন আমিনুল






