ইরাকের পার্লামেন্ট গতকাল শনিবার দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজার আমেদিকে নির্বাচিত করেছে। এর ফলে দেশে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ভেঙে সরকার গঠন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অব কুর্দিস্তান (পিইউকে) মনোনীত প্রার্থী আমেদি শনিবার পার্লামেন্টে দ্বিতীয় ধাপের ভোটে ২২৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী মুথানা আমিন নাদেরকে হারান, যিনি মাত্র ১৫ ভোট পান।

২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অভিযানে সাদ্দাম হোসেনের ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে ইরাকের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন আমেদি।

ভোটাভুটির পর পার্লামেন্টে বক্তব্যে আমেদি বলেন, তিনি দেশের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। তিনি সরকারের তিনটি শাখার সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার এবং ‘সবার আগে ইরাক’ নীতিতে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চলাকালে ইরাকে হওয়া হামলারও নিন্দা জানান আমেদি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করলে ইরান মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা করলে ইরাকি সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্য নিহত হন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর এখন সবার নজর নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের দিকে। এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত।

২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের পর দেশটিতে ক্ষমতা ভাগাভাগির ব্যবস্থা চালু হয়। সে অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শিয়া মুসলিম, পার্লামেন্ট স্পিকার হিসেবে সুন্নি এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে কুর্দিকে নির্বাচিত করতে হয়।

ইরাকে গত নভেম্বরের নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন ছাড়াই প্রায় ১৫০ দিন পার হয়ে গেছে। সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য আমেদির হাতে ১৫ দিন সময় আছে। এ সময়ের মধ্যে তাঁকে পার্লামেন্টে সবচেয়ে বড় জোটটির মনোনীত ব্যক্তিকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে হবে। এরপর সেই ব্যক্তিকে ৩০ দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে।

৫৮ বছর বয়সী আমেদি কয়েক দশক ধরে ইরাকের রাজনীতির কেন্দ্রস্থলে কাজ করে আসছেন। তিনি দুজন সাবেক প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পরিবেশমন্ত্রী ছিলেন।