লক্ষ্মীপুরে একের পর এক নারীকে চুল টেনে কিল–ঘুষি মারছিলেন মাঝবয়সী এক ব্যক্তি। মারধরের শিকার নারীরা বাঁচার জন্য চিৎকার করছিলেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই পুলিশ বিকেলে আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া নামের অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার আফতাব উদ্দিন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক উল্যার ছেলে। তিনি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি। সম্প্রতি তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভা মেয়র পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে এলাকায় পোস্টার সাঁটিয়েছেন এবং নিজেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপুর গ্রামের চাঁনগাজী হাওলাদার বাড়ির ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে আফতাবের জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। এর জের ধরে গত ৯ এপ্রিল আফতাব কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে ইসমাইলের বাড়িতে হামলা করেন। এ সময় ইসমাইলের পরিবারের নারী সদস্যদেরও তিনি মারধর করেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন এবং তাদের সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ শনিবার বিকেলে আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিন সন্ধ্যায় তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। ভিডিওটি নজরে আসার পরপরই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী ইসমাইল হোসেন নারী নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির মামলা করেন। মামলায় আফতাব উদ্দিন ছাড়াও ছয়জনকে আসামি করা হয়। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আফতাব একসময় ইসলামী ছাত্রশিবির করলেও বর্তমানে রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় নেই বলে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতারা দাবি করেন। পৌর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশান বলেন, আফতাব উদ্দিন একসময় পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি ছিলেন। এরপর তিনি দেশের বাইরে চলে যান। তিনি এখন সক্রিয়ভাবে জামায়াতের রাজনীতি করেন না।
নারীদের মারধরের বিষয়ে আবুল ফারাহ বলেন, ‘ভিডিওটি আমরাও দেখেছি। এটি অত্যন্ত অনুচিত হয়েছে। আফতাব ঠিক কাজ করেননি। এ ধরনের আচরণ কারও জন্য কাম্য নয়।’






