লা লিগায় অপ্রতিরোধী বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়নস লিগে এসে কেন দিশেহারা হয়ে পড়ে? বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তারা লিগে শিরোপার দৌড়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগের থিম সংগীত বাজতেই তাদের পায়ের তলায় মাটি সরে যায়। ইউরোপের মঞ্চে তারা যেন একটা সাধারণ দল হয়ে যায়।

গত শনিবার ক্যাম্প ন্যুতে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলের পরাজয়ে বার্সেলোনা কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়ের সংশয়ে পড়েছে। মাত্র কয়েকদিন আগে লিগ ম্যাচে আতলেতিকোর মাঠে গিয়ে তারা ২-১ গোলে জয়ী হয়েছিল। লা লিগার বাঘ চ্যাম্পিয়নস লিগে কেন বিড়াল হয়ে যায়—সমর্থকেরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। আতলেতিকোর বিপক্ষে হেরে কেন জার্মানিকে ধন্যবাদ জানালেন ক্ষুব্ধ ফ্লিক। ন্যু ক্যাম্পে ১০ জনের বার্সাকে স্তব্ধ করে আতলেতিকোর জয়।

গত এক দশকের পরিসংখ্যান দেখলে চ্যাম্পিয়নস লিগ বার্সেলোনার জন্য গোলকধাঁধা বলে মনে হয়। ২০১৫ সালে জুভেন্টাসকে হারিয়ে তারা সর্বশেষ শিরোপা জিতেছিল। এরপর ১০ বার চেষ্টায় ৫ বার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় হয়েছে। এবারও সেই পথে এগোচ্ছে দল। একই সময় লা লিগায় তারা পাঁচটি শিরোপা জিতেছে, এবার ষষ্ঠের পথে তিরবেগে ছুটছে।

স্পেনের মাটিতে রিয়াল মাদ্রিদকে টেক্কা দেওয়া বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়নস লিগ নকআউটে খেই হারায়। গত ১০ বছরে রিয়াল ৫টি ইউরোপিয়ান শিরোপা জিতেছে। লা লিগায় এই মৌসুমে হারের ম্যাচ থেকে ২১ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে বার্সা, কামব্যাক তাদের অভ্যাস। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগে আতলেতিকোর বিপক্ষে দুই গোল খেয়েও লড়াকু মানসিকতা দেখায়নি।

২০০৫ সালের পর ক্যাম্প ন্যুতে সব প্রতিযোগিতায় আতলেতিকোর কোনো জয় ছিল না। চ্যাম্পিয়নস লিগেই তারা সেই জয় পেল। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় আতলেতিকোর সামনে বার্সা খেই হারায়। ২০১৪ এবং ২০১৬ সালেও আতলেতিকোর কাছে হেরে বিদায় হয়েছিল। ম্যাচে বিরতির আগে পাও কুবারসি লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন। ১০ জন নিয়েও বার্সা নিয়ন্ত্রণ হারায়নি—৫৮ শতাংশ বলের মালিকানা, ১৮টি শট। কিন্তু গোল শূন্য। আতলেতিকো ৩টি শট অন টার্গেট থেকে দুই গোল করেছে।

সমস্যা সম্ভবত অভিজ্ঞতার। মেসির সোনালি প্রজন্মে সুয়ারেজ-নেইমার-মেসি ত্রয়ীর সঙ্গে ইনিয়েস্তা, বুস্কেতস, জাভি, রাকিতিচ ছিলেন। রক্ষণে পিকে, মাসচেরানো, দানি আলভেস। ওদের ধমনীতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ডিএনএ ছিল। বর্তমান দলে রবার্ট লেভানডভস্কি ছাড়া কারো ক্যাবিনেটে ট্রফি নেই। হান্সি ফ্লিক বায়ার্নে জিতেছেন, কিন্তু তরুণদের মনে জেতার তাড়না গাঁথা কঠিন। গত মৌসুমে পিএসজি ৫-০ গোলে ইন্টার মিলান হারালেও বার্সা ইন্টারের কাছে হেরে বিদায় হয়।

রিয়াল মাদ্রিদ যা পারছে না তা অবলীলায় করে দেখাচ্ছে—চ্যাম্পিয়ন মানসিকতা। তারা জানে কীভাবে জিততে হয়, চাপে স্নায়ু ঠান্ডা রাখে। বার্সেলোনা ঘরোয়া লিগে স্বচ্ছন্দ, কিন্তু ইউরোপে দিকভ্রষ্ট। এই লড়াইয়ে সুন্দর ফুটবল নয়, ইস্পাতকঠিন মানসিকতা দরকার। চ্যাম্পিয়নস লিগ আর লা লিগার ফারাক না ঘুচালে ইউরোপের রাতগুলো দীর্ঘশ্বাসের গল্প হয়ে থাকবে। শিরোপার পথে এগিয়ে বার্সা–বায়ার্ন–ইন্টার। উত্তর মিলবে আতলেতিকোর ফিরতি লেগে।