লাল-সবুজ পতাকায় জড়িয়ে কাঁদছিলেন মাবিয়া আক্তার—সেই ছবি এখনও ক্রীড়াপ্রেমীদের হৃদয়ে জ্বলজ্বল করে। ২০১৬ সালের এসএ গেমসে সোনার পদক গলায় জড়িয়ে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো মুহূর্তে তিনি হয়েছিলেন অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতীক। কিন্তু এখন সেই উজ্জ্বল ক্যারিয়ারে ঘন কালো মেঘ জমেছে। ডোপ টেস্টে পজিটিভ রিপোর্টের কারণে দেশের তারকা ভারোত্তোলক মাবিয়া দুই বছরের জন্য খেলা থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন।

ঘটনার শুরু হয় গত বছর সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের আগে। ২৯ অক্টোবর ঢাকার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) ভবনে মাবিয়ার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় তাঁর শরীরে নিষিদ্ধ ‘ফুরোসেমাইড’ এবং ‘ক্যানরেনোন’ পাওয়া যায়, যা শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়ার কাজ করে।

সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) গত বৃহস্পতিবার তাঁকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার চিঠি পাঠায়।

শাস্তির খবরে ভেঙে পড়লেও নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করছেন মাবিয়া। তাঁর জানানো, কোনো অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল না, বরং হাঁটুর ব্যথা ও অ্যালার্জির চিকিৎসায় ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ খেয়েছিলেন। মুক্তকণ্ঠকে তিনি বলেন, “আমি হাঁটুর ব্যথা আর অ্যালার্জির জন্য ওষুধ খেয়েছিলাম। বিওএ থেকে আমাদের সব সময় বলা হয় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কিছু না খেতে। আমি সেটাই করেছি, গোপনে কিছু খাইনি। আমার কাছে সব প্রেসক্রিপশন আছে।”

নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি বলেন, “বিওএ-র সেমিনারে শেখানো হয়েছিল যা–ই খাব, সেটার যেন প্রেসক্রিপশন থাকে। কিন্তু এটা কখনো বলা হয়নি যে কোন কোন ওষুধ খাওয়া যাবে না। ফলে আমি তো আর জানি না কোন ওষুধ খাওয়া যাবে না। ডাক্তারের পরামর্শে আমি ওষুধ খেয়েছি। অথচ আজ প্রেসক্রিপশন থাকার পরও আমাকে শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিওএর প্যাডে চিঠি পাঠানো হয়েছে আমাকে। কিন্তু সেই চিঠির সঙ্গে ওয়াডার কপিটিও দেওয়া হয়নি।”

২০১২ সালে জাতীয় দলে ক্যারিয়ার শুরু করা মাবিয়ার ঝুলিতে আছে আন্তর্জাতিক পাঁচটি সোনা। ২০১৬ ও ২০১৯ এসএ গেমসে টানা দুবার সোনা জিতেছেন। এখন সেই গৌরবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিষেধাজ্ঞার দাগ। তবে হাল ছাড়েননি মাবিয়া। ১৪ দিনের সময়সীমার মধ্যে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।