রংপুর নগরের একটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নিতে এসে এক শিক্ষক হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। গতকাল শনিবার বিকেলে মেসার্স সুরমা ফিলিং অ্যান্ড সার্ভিসিং সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত শিক্ষক মেহেদী হাসান (৩৩) রংপুর সদর উপজেলার বালাচড়াহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি রংপুর নগরের নিউ ইঞ্জিনিয়ারপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর বাবা, বেগম রোকেয়া কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ আবদুল মতিন মুক্তকণ্ঠকে জানান, মেহেদী হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মাহবুব হোসেন বলেন, ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের জানানি অনুসারে, গতকাল বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের পর্যটন মোটেলের বিপরীত পাশে মেসার্স সুরমা ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল নিয়ে যান মেহেদী। তিনি অপেক্ষমাণ গ্রাহকদের সারিতে ছিলেন না। সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা যায়, বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটে সুমনা ফিলিং স্টেশনের বাঁ দিকে ফাঁকা স্থানে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মজনু মিয়ার সঙ্গে কথা বলছেন মেহেদী। সেখান থেকে হেঁটে খানিক এগোতেই মাটিতে পড়ে যান। আশপাশের লোকজন তাড়াতাড়ি ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, মেহেদী হাসানকে ইজিবাইকে করে নিকটবর্তী প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে রমেকে নেওয়া হলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সুরমা ফিলিং অ্যান্ড সার্ভিসিং সেন্টারের ব্যবস্থাপক আরাফাত হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আনুমানিক বিকেল ৪টার পরপর গেটে মাস্ক পরা একজন আমাদের কর্মচারীকে কী যেন জিজ্ঞেস করছে। হয়তো তেলের বিষয়ে কোনো তথ্য নিচ্ছে। ওই সময় আমার ফোনে একটি কল আসে। আমি ফোনের দিকে তাকাইলাম, আবার বাইরের দিকে তাকালাম। বাইরে তাকানোর পরে দেখি লোকটা ধপ করে পড়ে গেল।’
ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা জানান, মেহেদী হাসানের মৃত্যুর পর রাত আটটার দিকে তাঁর এক স্বজন এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান।
ঘটনার সময় ফিলিং স্টেশনে তদারকির দায়িত্বে (ট্যাগ অফিসার) ছিলেন রংপুর উপজেলার কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা মাহে আলম ও রংপুর মহানগরের কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক সাদ্দাম সরকার। সাদ্দাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘উনি (মেহেদী হাসান) হঠাৎ করে পড়ে গেছেন। পড়ে যাওয়ার পরে ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলেন না। তাৎক্ষণিকভাবে অটোতে করে তাঁকে মেডিক্যালে সোপর্দ করা হয়েছিল।’
মেহেদী হাসান রংপুর জিলা স্কুলের ২০১০ ব্যাচের শিক্ষার্থী। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজন, সহকর্মী ও বন্ধুবান্ধবের মধ্যে শোকের ছায়া নেমেছে।
বালাচড়াহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আফরোজা পারভীন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘মেহেদী চারটার দিকে স্কুল থেকে রংপুরে বাড়ির উদ্দেশে যান। পরে ওনার নম্বর থেকে কেউ একজন ফোন দিয়ে বলেছিলেন, “এই ফোনটা যার, সে সম্ভবত হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছে পর্যটনের সামনে। আপনি একটু সবাইকে খবর দেন ও আসেন।” সঙ্গে সঙ্গে আমার স্বামী ও ছেলে ঘটনাস্থলে গিয়েছে। তারপর প্রাইম থেকে রংপুর মেডিক্যালে নিয়ে গিয়ে ইসিজি করার পর মৃত্যুর খবর আসে। বিষয়টা খুব দুঃখজনক। তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও মমতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছিলেন।’






