শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন নিয়ে পরীক্ষকদের নির্দেশ দেন, “খাতায় যা-ই লেখা থাকুক, সঠিক উত্তর যাচাই করেই নম্বর দিতে হবে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়া যাবে না।”
গতকাল শুক্রবার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রাম এবং এ অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডগুলোর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬–এর কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে জুম মিটিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী এ নির্দেশনা জারি করেন। তিনি নকল প্রতিরোধ ও সুষ্ঠু পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
সভায় মন্ত্রী কেন্দ্র সচিবদের বলেন, পরীক্ষাকে ঘিরে কোনো ধরনের অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি করা যাবে না। তিনি প্রতিটি পরীক্ষাকক্ষে ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন। বিদ্যুৎ–বিভ্রাটের ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে আইপিএস ব্যবহারের উপর জোর দেন। এ ব্যবস্থা পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকার পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণেও সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, “২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকদের সহযোগিতায় আমরা পাবলিক পরীক্ষায় নকল বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলাম। এবারও শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে আমি আশাবাদী।” শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “শিক্ষকদের পূর্বেও আমি নিরাপত্তা দিয়েছি, এবারও দেব। আপনারা নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।”
খাতা মূল্যায়নের বিষয়ে আবারও পরীক্ষকদের নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “খাতায় যা-ই লেখা থাকুক, সঠিক উত্তর যাচাই করেই নম্বর দিতে হবে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়া যাবে না।” প্রশ্নপত্র ফাঁসকে গুরুতর অপরাধ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এবারও তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি একটি মেধাবী জাতি গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সব কেন্দ্র সচিব উপস্থিত ছিলেন।






