ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করায় তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তাও চেয়েছেন।

পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় ওই ছাত্রী। পরে তার মা বাদী হয়ে ময়মনসিংহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলার আবেদন করেন। আদালতের আদেশে চলতি বছরের ৭ মার্চ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে মামলা নথিভুক্ত হয়।

ঘটনার দিনই মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. আশিককে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। নির্যাতিত মেয়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রীর মা-বাবা, বড় বোন ও তিনি উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রীর বড় বোন বলেন, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে তাঁর বোনকে উত্ত্যক্ত করতেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ ইছমতের ছেলে মোশাররফ হোসেন। বিষয়টি মেয়েটি মাকে জানায়। মা মোশাররফ ও সহযোগীদের নিষেধ করেন, কিন্তু তারা ক্ষিপ্ত হয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। একপর্যায়ে বোনের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

ছাত্রীর বোন আরও বলেন, ‘একটি দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গত ১২ ডিসেম্বর আমার মা-বাবা ছোট ভাইকে নিয়ে নানির বাড়িতে যান। পরে আসামিরা আমাদের বাড়িতে গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আমার বোনকে ধর্ষণ করে। আমার বাবা-মা বাড়িতে ফিরে ঘটনা জেনে স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছে বিচার চায়। আমাদের আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে আসামিরা বাধা দেওয়া শুরু করে। পরে কষ্ট করে আদালতে এসে মামলা করি।’

সংবাদ সম্মেলনে পরিবার দাবি করে, থানায় মামলা হওয়ার পর একজন ধরা পড়লেও বাকি আসামিরা গ্রেপ্তার হচ্ছে না। আসামিরা প্রায়ই বাড়িতে এসে মামলা তোলার হুমকি দিয়ে পরিবারের সদস্যদের হত্যার শাসানি দিচ্ছে। একজন আসামি বিএনপি নেতার ছেলে হওয়ায় পুলিশ তাকে ধরছে না। এ ঘটনায় ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি। ষষ্ঠ শ্রেণির ভাইও ভয়ে স্কুলে যাচ্ছে না।

পরিবারের অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘বাকি আসামিদের ধরতে আমি নিজে অভিযান করেছি, কিন্তু তাদের পাইনি। আসামিরা ভয় দেখাচ্ছে—এমনটি জানালে চার-পাঁচ দিন আগে থানায় একটি জিডি নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিট অফিসার পরিবারটির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। পরিবারটির নিরাপত্তা বিধান করা হবে।’