জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী জুলাই বিপ্লব ও গণভোটের রায় রক্ষাসহ তিন দাবিতে আমরণ অনশনে বসা তিন শিক্ষার্থীর প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনরত শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি এই সংহতি প্রকাশ করেন।

অনশনে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সাকিবুর রহমান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ মোস্তাফিজ।

সংহতি জানিয়ে পাটওয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, গণভোটের রায় নিয়ে মতপার্থক্যের কোনো অবকাশ নেই। বাংলাদেশের মানুষ সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে। সেখানে যদি কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য সংস্কারকে পাশ কাটানো হয়, সেটা বাংলাদেশের মানুষ মানবে না।

এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আমি বারবার বলার চেষ্টা করেছি, আমাদের যে সাংবিধানিক কাঠামো এই কাঠামোটা হলো ফ্যাসিস্ট কাঠামো। এখন আপনি তারেক জিয়াকে বসান, শেখ হাসিনাকে বসান, যাকে ইচ্ছা তাকে বসান না কেন; সে-ই ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠবে। এ জন্য আমাদের সিস্টেমটা পরিবর্তন করতে হবে।’

এর আগে সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মূক নাটক ‘জুলাই’ মঞ্চস্থ করে অনশনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানায়। রাত সাড়ে নয়টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ অনশনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে আসেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের এ বিষয় নিয়ে দাবি করার দ্বিতীয়বার প্রয়োজন ছিল না। এটি একটি স্যাটেলড (মীমাংসিত) ইস্যু; অর্থাৎ গণভোট হবে, তার ফলাফল যা আসবে, সেটি বাস্তবায়িত হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

প্রক্টর আরও বলেন, ‘এটি স্বাভাবিকভাবে প্রত্যাশিত যে, গণভোটের রায় যাই হোক না কেন, সেটি পরবর্তীতে বাস্তবায়িত হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এখনো আশাবাদী যে, সরকার এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। আমরা সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের বক্তব্য শুনছি, তারা বারবার বলেছেন যে, তারা গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং তা বাস্তবায়ন করবেন।’

বিকেলে অনশনরত শিক্ষার্থী সাদিক মুনওয়ার মুনেম সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনশনের ২৩ ঘণ্টা পার হলো। সকাল থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী সংহতি জানাতে এসেছেন। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় শরীর দুর্বল হয়ে পড়লেও গণভোটের জনরায় বাস্তবায়নের দাবিতে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমার মনোবলকে আরও দৃঢ় করেছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চালিয়ে যাব।’

রাত ১০টা ৪০ মিনিটে এই প্রতিবেদন লেখার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল টিম রাজু ভাস্কর্যে এসে অনশনরত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে।

উল্লেখ্য, জুলাই বিপ্লব ও গণভোটের রায় রক্ষাসহ তিন দাবিতে গত বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আমরণ অনশনে বসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিক মুনওয়ার মুনেম। পরে সংহতি জানিয়ে তাঁর সঙ্গে আমরণ অনশনে যোগ দেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাকিবুর রহমান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শেখ মোস্তাফিজ।