চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সক্রিয় নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট তাদের ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে চার দিনব্যাপী বর্ষবরণ উৎসবের আয়োজন করেছে। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন নিয়ে সংগঠনটি বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিচালনা করছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সংগঠনের প্রচার সম্পাদক উজ্জ্বল উচ্ছাস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১ থেকে ৪ বৈশাখ পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। ১ বৈশাখ মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রভাতি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে। এতে বাঁশি, তবলা, সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করা হবে। এরপর মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হবে। বিকেলে চার দিনব্যাপী উৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে চিত্রশিল্পী রফিকুন নবীর উপস্থিতি থাকার কথা। উদ্বোধনের পর জোটভুক্ত সংগঠনগুলোর আয়োজনে সংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য, কবিতাপাঠ ও নাটক মঞ্চস্থ হবে।
২ বৈশাখ বুধবার বিকেলে একই স্থানে জোটভুক্ত সংগঠনগুলোর আয়োজনে সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যানুষ্ঠানের পাশাপাশি সন্ধ্যায় দেশের বিশিষ্ট বাউলশিল্পীদের পরিবেশনায় বাউলগান অনুষ্ঠিত হবে। ৩ বৈশাখ বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাউল উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন বিকেলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট বাউলশিল্পীরা বাউলগান পরিবেশন করবেন। উৎসবের শেষ দিন ৪ বৈশাখ সন্ধ্যা সাতটায় নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে উৎপল দত্ত রচিত নাটক ‘টিনের তলোয়ার’ পরিবেশিত হবে।
আয়োজকেরা জানান, ১৯৮১ সালে নারায়ণগঞ্জের সমমনা পাঁচটি সংগঠন—সাহিত্য বিতান, শাপলা, পলাশ, ড্যাফোডিল ও দারুচিনি বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সমন্বিতভাবে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ওই বছর পয়লা বৈশাখের আয়োজনে নারায়ণগঞ্জের সুধীজন পাঠাগারে সমবেত হয়ে শোভাযাত্রাসহ চাষাঢ়া গোলচত্বরে বৈশাখী গান ও কবিতাপাঠের আয়োজনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের যাত্রা শুরু হয়। পরে জোটভুক্ত হয় উদীচী, সুধীজন পাঠাগার, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব ও একতা খেলাঘর আসর।






