উরুগুয়ের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজ ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে জাতীয় দলে ফিরতে চান। ইএসপিএন-এর তথ্য অনুসারে, ‘দিয়ারিও ওভাসিওন’ সংবাদমাধ্যমকে সম্প্রতি দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৩৯ বছর বয়সী সুয়ারেজ বলেন, দল চাইলে তিনি অবসর ভেঙে বিশ্বকাপে খেলতে প্রস্তুত। এই মন্তব্য সুয়ারেজের বিশ্বকাপে ফেরার সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মন্তেভিদিওতে সংবাদ সম্মেলনে সজল চোখে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণা করেন সুয়ারেজ। তখন তিনি বলেছিলেন, “সময় হয়েছে সরে দাঁড়ানোর। জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সাহস অর্জন করতে পেরেছি।”

চার দিন পর ৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের সপ্তম রাউন্ডে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পুরো ম্যাচ খেলে উরুগুয়ের জার্সি বিদায় জানান সুয়ারেজ। দুই বছর পর তিনি এবার জাতীয় দলে ফেরার ইচ্ছা জানিয়েছেন। সুয়ারেজ বলেন, “জাতীয় দল সব সময়ই এমন এক জায়গা, যেখানে আমি থাকতে চাই। বিশ্বকাপের আগে যদি দল আমাকে প্রয়োজন মনে করে, আমি কখনোই দেশকে “না” বলতে পারব না, কখনোই না।”

সুয়ারেজ জোর দিয়ে বলেন, “আমি অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যাতে অন্য খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া যায়। কারণ, আমি অনুভব করেছিলাম, আর দলের জন্য যথেষ্ট অবদান রাখতে পারব না। কিন্তু যদি দল আমাকে প্রয়োজন মনে করে, যতক্ষণ আমি সক্রিয় আছি, জাতীয় দলের ব্যাপারে “না” বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”

ইন্টার মায়ামির হয়ে সুয়ারেজ সর্বশেষ ৫ এপ্রিল খেলেছেন। অস্টিনের বিপক্ষে এমএলএস ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে কোচ হাভিয়ের মাচেরানো তাঁকে বদলি হিসেবে নামান। তখন দল ২–১ গোলে পিছিয়ে ছিল। ৮৩ মিনিটে গোল করে সুয়ারেজ দলকে সমতায় ফিরিয়ে আনেন। গত মৌসুমে মায়ামির হয়ে ৫০ ম্যাচে ১৭ গোল করা এবং ১৭ গোল অ্যাসিস্টের এই ফর্ম জাতীয় দলে ফেরায় সহায়ক হতে পারে।

যদি সুয়ারেজ উরুগুয়ের জাতীয় দলে ফিরে বিশ্বকাপ খেলেন, তবে লিওনেল মেসি (৩৯) এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর (৪১) পাশাপাশি তিনিও মঞ্চ থেকে বিদায় নেওয়ার সুযোগ পাবেন। উরুগুয়ের জার্সিতে ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে ১৪৩ ম্যাচে ৬৯ গোল করে সুয়ারেজ সর্বোচ্চ গোলদাতা। পরে রয়েছেন এদিনসন কাভানি (৫৮ গোল)। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হবে বিশ্বকাপ। আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা।