বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে জাল ভোট, এজেন্টদের বের করে দেওয়া, সকালেই স্বাক্ষর নিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে। দলটি দুই আসনের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং অনিয়মের কেন্দ্রগুলোতে ভোট গ্রহণ স্থগিত করার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) হস্তক্ষেপ চেয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই দুই আসনের উপনির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "বগুড়া ও শেরপুরের দুটি আসনের উপনির্বাচনে ভোট কারচুপি, জাল ভোট, এজেন্টদের বের করে দেওয়া, সকালেই স্বাক্ষর নিয়ে নেওয়ার মতো অনেক আপত্তিকর ঘটনা ঘটেছে। এখনো নির্বাচন চলছে। এর মধ্যে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পাওয়া কিছু অনিয়মের বিষয় জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।"

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বগুড়া-৬ আসনের মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফলাফল শিটে আগেই স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এটা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। নিয়ম অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ ও গণনা শেষে ফলাফল তৈরি হলে তখন ফলাফল শিটে সব প্রার্থীর এজেন্টরা স্বাক্ষর করবেন। তিনি অন্তত ১৩টি কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়া ও জামায়াত প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগও করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রীবরদী পৌর বিএনপির সেক্রেটারি আবদুল মোহাম্মদ দুলাল এবং আহ্বায়ক অপুর নেতৃত্বে ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ঢুকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে ওই উপজেলা জামায়াতের যুব কমিটির সভাপতি আমির হামজাকে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে আগে থেকেই জানানো হলেও কোনো প্রতিকার হয়নি। বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে পেটোয়া বাহিনী কেন্দ্রে কেন্দ্রে হামলা করছে, নারীদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দিচ্ছে, তাদের অপমানিত-লাঞ্ছিত করছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিমউদ্দিন মোল্লা প্রমুখ।